ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা গ্রেপ্তার
×

প্রতীকী ছবি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ২১:৫৭

ঝিনাইদহে পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিরব হোসেন নিহতের ঘটনায় এদিন তাঁর বাবা চারজনের নামে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরেক আসামি পলাতক।

আগুন ও ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান জীবন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাশদীদ হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হোসেন অন্তর, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির ও নেতা রাসেল হুসাইন এবং ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইম।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, গত শনিবার রাতে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান নিরব হোসেন (২২)। সেখানে ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের মারধরে নিরবের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাজ ফিলিং স্টেশনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশের ভূমিকায় তারা সেখান থেকে সরে যান। এরপর তারা শহরের আরাপপুরে তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিকের সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর করে। এরপর ওই রাতেই তারা ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পার্ক করে রাখা তিন বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় রোববার সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়। সেই মামলার তদন্ত করে শহরের ব্যাপারীপাড়া, পায়রা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির করা হলে বিচারক মোখলেছুর রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শনিবার রাতে নিরবের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন শহরের আরাপপুরে অবস্থিত তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক হারুন অর রশিদের সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। তেল দেওয়ার মেশিনগুলো ভেঙে ফেলা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে থেমে থাকা জে লাইন পরিবহন, রয়েল এক্সপ্রেস ও নাঈম পরিবহন নামে একটি লোকাল বাসে আগুন দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনে পুড়ে যাওয়া বাস নাঈম পরিবহনের মালিক সাঈফ নোমান রোববার বাদী হয়ে সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে পেট্রোল দিয়ে বাসগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আজ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন সমকালকে জানান, নিরব হত্যার ঘটনায় রোববার দুপুরে সদর থানায় চারজনের নামে হত্যা মামলা করেছেন তাঁর বাবা। এর মধ্যে ঘটনার রাতে আটক তাজ ফিলিং স্টেশনের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার আরেক আসামি ওই ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন পলাতক।

আরও পড়ুন

×