সরকারি চাল গুদামে পড়ে থেকেই বিনষ্ট
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫৭ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দুস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দের চাল সময়মতো বিতরণ না করায় পোকায় খেয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। ৩০ কেজি ওজনের ৫০-৬০ বস্তা চাল বিনষ্ট হয়েছে। চালগুলো খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়লেও দায়িত্বশীলরা উপকারভোগীদের ওপরই দোষ চাপাচ্ছেন।
জানা গেছে, রাজগাতী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার মমতাজ খোকন বিগত সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হয়ে কিছু দিন জেলে ছিলেন। পরে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুল হক ফারুক রেজা। অভিযোগ রয়েছে, সচিব সুব্রত চক্রবর্তীও নিয়মিত পরিষদে আসেন না। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে উপকারভোগীদের বরাদ্দ বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া রাজগাতী ইউপির স্থায়ী কোনো ভবন নেই। যে যখন চেয়ারম্যান হন তিনি তাঁর সুবিধামতো স্থানে অস্থায়ী কার্যালয় করে নেন। বর্তমানে অস্থায়ী কার্যালয় জামতলা বাজারে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি কার্যালয়ের পাশে থাকা অস্থায়ী গুদামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অসংখ্য লোকের ভিড়। গুদামে থাকা পোকায় খাওয়া চাল দেখে আফসোস করছেন তারা। এ সময় পাছদরিল্লা গ্রামের ইব্রাহিম ও মিল্টন মিয়া জানান, গরিব মানুষ দুই বেলা ভাত খাইতে পায় না, আর এখানে তাদের চাল থেকে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
গুদামে গিয়ে দেখা যায়, ওই চালের বস্তাগুলো ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) প্রকল্পের। এগুলো জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বরাদ্দ। নিয়মিত বিতরণ না করায় এর আগের চার-পাঁচ মাসের বরাদ্দের চালও গুদামে মজুত করে রাখা হয়েছে। গুদামের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, জড়ো করে রাখা বস্তার বাইরেও বিপুল পরিমাণ চাল মেঝেতে পড়ে রয়েছে। দুর্গন্ধ চালের ওপর পোকা হাঁটাচলা করছে। কিছু ইঁদুরে খাওয়া চালের বস্তা গুদামের বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে।
সেখানে থাকা নজরুল ইসলাম নামে গ্রাম পুলিশের সদস্য বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে গুদাম পাহারা দেওয়ার জন্য। চাল নষ্ট হচ্ছে না ভালো আছে, সে বিষয়ে আমার কি করার আছে।’
কাশিনগর গ্রামের হাসনা আক্তার তাঁর বোনঝি বিলকিছ আক্তারের পক্ষে চাল নিতে এসেছেন। তিনি জানান, চাল কখন আসে তা তাদের জানানো হয় না। এবারও লোকমুখে শুনে তিনি চাল নিতে এসেছেন।
ইউপি সচিব সুব্রত চক্রবর্তী জানান, যেদিন উপজেলা পরিষদে কাজ থাকে সেদিন তিনি তাঁর কার্যালয়ে আসতে পারেন না বা এলেও দেরি করে আসেন। সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ চাল নষ্ট হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপকারভোগীরা চাল নিতে না এলে তাঁর কী করার আছে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও পিআইও মনিরুল হক ফারুক রেজা জানান, বরাদ্দের চাল নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তাঁকে কেউ জানায়নি।
- বিষয় :
- চাল
- নান্দাইল
- গুদাম
- চাল বরাদ্দ
