ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন
×

ফাইল ছবি

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ০৩:৫৯

ফরিদপুরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী রুবাইয়া বেগমকে হত্যার দায়ে আসামি আহাদ শেখকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সাজা ঘোষণা করেন ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি আহাদ শেখ। পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের কাজী বল্লভদী গ্রামের বাসিন্দা। নিহত রুবাইয়া বেগম একই উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে রুবাইয়া বেগমের সঙ্গে আহাদ শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের তিন বছর পর আহাদ শেখ সৌদি আরব যাওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি দুই লাখ টাকার জন্য তিনি চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট যৌতুকের বাকি টাকা না পেয়ে আহাদ শেখ প্রথমে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন এবং পরে বিষ খাইয়ে হত্যা করেন। এই ঘটনায় আহাদ শেখ, তাঁর মা, তিন ভাইসহ পাঁচজনকে আসামি করে সালথা থানায় মামলা করেন নিহত রুবাইয়ার মা রোমেছা বেগম।

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর জেলা সিআইডি কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আমিনুজ্জামান। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৩ জুন আহাদ শেখ, তাঁর ভাই মোহাম্মদ শেখ ও মাহিম শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী জানান, আহাদ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে তাঁর দুই ভাই 
মোহাম্মদ শেখ ও মাহিম শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন। তিনি বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি সুস্থ সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের এই রায়ে সন্তুষ্ট বাদীপক্ষ।
 

আরও পড়ুন

×