পাবিপ্রবিতে কাজ পেল 'বাঁশ' দেওয়া সেই প্রতিষ্ঠান
এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:২২
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পেয়েছে চুয়াডাঙ্গায় রডের বদলে বাঁশ দেওয়া আলোচিত সেই প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড (ইসিএল)। ইতোমধ্যে ঘুষ কেলেঙ্কারির অডিও ফাঁসের ঘটনায় সমালোচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম রোস্তম আলীর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। এখন বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার খবরে সেই আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দর্শনাতে কৃষি বিভাগের প্রায় আড়াই কোটি টাকার একটি ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করায় বিষয়টি নিয়ে সে সময় সারাদেশে তোলপাড় হয়।
পাবিপ্রবির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এসএম গোলজার হোসেন ইসিএলকে কাজ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রকল্পে প্রায় তিনশ' কোটি টাকার কাজ হবে। সেখানে ড্রইং, ডিজাইন ও সেন্টার ডকুমেন্ট তৈরিসহ বিভিন্ন কাজ করবে এই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি। তবে কীভাবে এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ পেল, সে বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী।
কাজ পাওয়ার জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান শ্যামলীর একুমেন্ট আর্কিটেক্ট প্লানার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রায়হান রুবেল বলেন, 'পাবিপ্রবির ডিপিপি পাস হওয়ার পর থেকে উপাচার্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে খোঁজ নিয়ে বিতর্কিত ইসিএলকে কাজ দিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গায় এত আলোচিত ওই প্রতিষ্ঠানকে কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দিলেন, তা আমার বোধগম্য নয়।'
পাবিপ্রবির প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) জিএম আজিজুর রহমান বলেন, ইসিএলকে কাজ তো আমরা দিইনি, সিস্টেমে হয়ে গেছে। পিপিএ-২০০৬ এবং পিপিআর-২০০৮-এর নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে তারা কার্যাদেশ পেয়েছে। আর চুয়াডাঙ্গায় রডের বদলে বাঁশ দেওয়া নিয়ে যে অভিযোগ- সে কাজটি তো ইসিএল করেনি। তারা শুধু পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ছিল। সেখানে তাদের কোনো দোষ নেই। উপাচার্য অনেক যাচাই-বাছাই করে তাদের কাগজপত্র দেখেই কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত ২৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগে দু'জন শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে এক প্রার্থীর উপাচার্যের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনার তদন্তসহ ১২ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সম্প্রতি ২৮ জোড়া বেঞ্চ ক্রয়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকার ওপরে ব্যয় দেখানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক এম রোস্তম আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে কয়েকবার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
- বিষয় :
- পাবিপ্রবি
