‘চাল চাতি গেলি ঘাড় ধইরে ফেলায় দেছে’
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনার কয়রায় ভিজিএফের চাল নিতে এসে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের গলাধাক্কা খেয়েছেন একাব্বর আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তি। পেশায় তিনি দিনমজুর। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুস্থ মানুষের মাঝে চাল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার এ বিষয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুস্থ মানুষের মাঝে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা চাল নিয়ে ফেরার পর দিনমজুর একাব্বর আলী সেখানে গিয়ে ইউপি সদস্যের কাছে তালিকায় তাঁর নাম আছে কিনা জানতে চান। তালিকা দেখে ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান জানিয়ে দেন, তাঁর নাম নেই। পরে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের কাছে গিয়ে একাব্বর আলী চালের জন্য অনুরোধ করেন। শুরুতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগাল করে তাঁকে বের করে দেন। কিছুক্ষণ পর একাব্বর আলী আবার এলে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তাঁকে গলাধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।
একাব্বর আলী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। কামাই (রোজগার) করার আর কেউ নেই। ইউনিয়ন পরিষদে চাল দেবার খবর শুনি সেকেনে গেলাম। চিয়ারম্যানের কাছে চাল চাতি গেলি ঘাড় ধইরে ঠেলা মাইরে ফেলায় দেছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী শাহারুজ্জামানের ভাষ্য, একাব্বর আলী বারবার চেয়ারম্যানের কাছে চালের জন্য অনুনয়-বিনয় করছিলেন। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান বিরক্ত হয়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ওই বৃদ্ধ মাটিতে পড়ে যান।
ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাসুদুর রহমান বলেন, চাল বিতরণের সময় ওই ব্যক্তি এসেছিলেন। তালিকায় নাম না থাকায় তাঁকে চলে যেতে বলেন। জোহরের নামাজ পড়ে এসে শুনেছেন, চেয়ারম্যান ওই ব্যক্তির সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মহারাজপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের ভাষ্য, ওই বৃদ্ধকে চেয়ারম্যান পরে আসতে বলেছিলেন। তিনি বারবার চেয়ারম্যানকে বিরক্ত করছিলেন। এ সময় চেয়ারম্যান তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘ইউএনও সাহেবের কাছে যখন অভিযোগ দিয়েছে, তখন তিনি ঘটনা তদন্ত করে দেখুন, কী ঘটেছিল। এর বেশি আমার কিছু বলার নেই।’
- বিষয় :
- চাল
