ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৭১-এর বিপরীতে ২৪কে দাঁড় করানো যাবে না

৭১-এর বিপরীতে ২৪কে দাঁড় করানো যাবে না
×

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২৫ মার্চ ভয়াল কালরাত স্মরণে আলোকশিখা প্রজ্বালন সমকাল

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

একাত্তরের বিপরীতে চব্বিশকে দাঁড় করানোর চেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজন। একাত্তরকে এ জাতির ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে তারা বলেন, একাত্তরের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু করে। সেই ভয়াল কালরাত স্মরণে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। উন্মেষ সাংস্কৃতিক সংসদ এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, একাত্তরের বিপরীতে চব্বিশকে দাঁড় করানোর পাঁয়তারা চলছে। এটা আমাদের ইতিহাসকে পরিবর্তনের একটি অশুভ তৎপরতা। একাত্তর একাত্তরই। চব্বিশ বা যে কোনো গণআন্দোলন ভিন্ন বিষয়। একাত্তরকে ভিত্তি করেই আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের ইতিহাস দাঁড়িয়ে আছে। একাত্তরকে বাদ দিয়ে এটার মুখোমুখি যারা চব্বিশকে দাঁড় করাতে চায়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। চব্বিশের স্বপ্ন একাত্তরের বাইরে নয়। একাত্তরে আমরা এ ভূখণ্ডে বসবাসরত সব ধর্ম, জাতি, বর্ণনির্বিশেষে সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলাম। এটা আমরা ৫৫ বছরে পারিনি। এই স্বপ্ন থেকেই আমরা চব্বিশে আবার গণআন্দোলনে নেমেছি। তবে সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়ন হবে, সেটাও এখন আবার প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। পঁচিশের কালরাতে মানুষের সেই অধিকার বাস্তবায়নের শপথ আমাদের আবার নিতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরবর্তী সময় সারাদেশে তাদের গণহত্যায় সহায়তা করে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী। কিন্তু হত্যা, ধর্ষণ করে, বাড়িঘর ও ক্ষেতের ফসলে আগুন লাগিয়ে দিয়ে বাঙালিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে। কিন্তু সেই দেশে এখন মুক্তিযোদ্ধাদের কোথাও কোথাও অসম্মান করা হয়েছে। কারও কারও মধ্যে পাকিস্তান প্রীতি তৈরি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ হত্যার ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এসব অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুশ্রী দাস গুপ্তা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন জিয়াউল ইসলাম কাজল, পিন্টু সাহা, ফাহমিদা আজাদ ও মোহাম্মদ সেলিম। এরপর উন্মেষের শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।

আরও পড়ুন

×