আইসিইউ শয্যা না পেয়ে ১৫ দিনে ৪৪ শিশুর মৃত্যু
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা মাত্র ১২টি। তবে নানা জটিলতা নিয়ে প্রতিদিন শয্যার জন্য অপেক্ষায় থাকে ৪০ থেকে ৫০ শিশু। আইসিইউতে ভর্তি থাকা আগের রোগী সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হয় না। আইসিইউর অপেক্ষায় থেকে অনেক শিশুর নিভে যায় প্রাণ। গত ১৫ দিনে মারা যাওয়া এমন শিশুর সংখ্যা ৪৪।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, গত ১০ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসব শিশু আইসিইউতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে মারা গেছে। হাসপাতালে ৪০ শয্যার একটি আইসিইউ ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর, ১৬টি জেরিয়াট্রিক (৬০ বছরের বৃদ্ধ) ও ১২টি শিশুর জন্য নির্ধারিত। এই ৪০ শয্যার মধ্যে ১২টি আবার অনুমোদনহীন। এগুলো চালানো হয় হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়।
তিনি জানান, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কোনো হাসপাতালে শিশুর জন্য আইসিইউ সেবা না থাকায় এলাকার জটিল শিশু রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। ফলে আইসিইউ ওয়ার্ডে সবসময় বাড়তি চাপ লেগেই থাকে। ১২টি শয্যার জন্য প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ রোগী অপেক্ষায় থাকে। গত বৃহস্পতিবার ৪৮ শিশু রোগী আইসিইউতে ভর্তির জন্য অপেক্ষায় ছিল। আইসিইউতে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ সব রোগী সংকটাপন্ন থাকে। ফলে কাউকে বাদ দিয়ে আগে সিরিয়াল দেওয়ার সুযোগ নেই। আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ এসব রোগীর মধ্য থেকেই প্রতিদিন শিশু মারা যাচ্ছে। আইসিইউতে ভর্তি করা গেলে হয়তো এদের কাউকে কাউকে বাঁচানো যেত।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, এক হাজার ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে সক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগীর সেবা দেওয়া হয়। এখানে শিশু শয্যা মাত্র ১৬০টি। গত বুধবার হাসপাতালের দুটি ইউনিটে শিশু রোগী ভর্তিই ছিল ৭৫০ জন। এত রোগীর ৫ শতাংশেরও যদি আইসিইউ সুবিধার প্রয়োজন হয় তাহলে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জনকে এই সেবা দেওয়া দরকার। অথচ শিশুর জন্য আইসিইউ সুবিধা আছে মাত্র ১২টি।
এদিকে নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১২টি আইসিইউ সুবিধাসহ ২০০ শয্যার রাজশাহী শিশু হাসপাতালটি জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে এখনও চালু করা যায়নি।
- বিষয় :
- রামেক
