ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

চার মাস আগে দেশ ছাড়েন শায়েখ, জমি বেচে টাকা দেন বাবা

চার মাস আগে দেশ ছাড়েন শায়েখ, জমি বেচে টাকা দেন বাবা
×

ছেলে মৃত্যুর খবর পেয়ে বাকরুদ্ধ শায়েখের মা। ছবি: সমকাল

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১৫:০৬ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১৫:৩১

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামে জন্ম শায়েখ আহমদ জয়ের। তার স্বপ্ন ছিল উন্নত দেশে যাওয়ার। বাবা আখলুস মিয়া ছেলের স্বপ্ন পূরণে রাজি হন। ভেবেছিলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে সংসারের অভাব দূর করবেন, একটু সচ্ছলতার মুখ দেখবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন  দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে এসেছে পরিবারে।

চার মাস আগে উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়েন শায়েখ। দালালের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে কয়েকটি দেশ মাড়িয়ে পৌঁছে যান লিবিয়ায়। সৌদি আরব, কুয়েত, দুবাই ও মিশর পাড়ি দিয়ে তার এই যাত্রায় ছিল অনিশ্চয়তা। 

লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর শুরু হয় অবর্ণনীয় কষ্ট। সেখান থেকে ইউরোপ যেতে অবৈধ সাগরপথে পাড়ি দেওয়ার জন্য আবারও সাড়ে ৭ লাখ টাকা দাবি করে দালালরা। ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জমি বিক্রয় করে সেই টাকা দেন বাবা আখলুস মিয়া।

 গত ২০ মার্চ পরিবারের সঙ্গে শায়েখের শেষ কথা হয়। ফোনে জানান, নির্যাতন করা হচ্ছে, অমানবিক পরিবেশে দিন কাটছে। বাবাকে অনুরোধ করেন, ২৩ মার্চের মধ্যে যদি নৌযানে রওনা দিতে না পারেন, তাহলে যেন তাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। শায়েখের মৃত্যুৃর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা আখলুস মিয়া

এরপর থেকে নিখোঁজ শায়েখ। এরপর শনিবার ছেলের সঙ্গের কয়েকজন এসে জানায়, শায়েখ মারা গেছে। লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এরপর থেকে বাবা আখলুস মিয়া যেন বাগরুদ্ধ, কিছুক্ষণ পরপর আহাজারি করে কান্না করছেন।

সমকালকে আখলুস মিয়া বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার লাগি পাগল অইগেছে, ইটা ভাঙে, হিটা ভাঙে, মারধর করে। পরে ইদেশ থাকি হি-দেশ যাইতে যাইতে (যেতে যেতে) লিবিয়ায় যায়। কয়েকদিন আগে কয় ইখানো আর থাকা যাইতো নায়, আমার লগের হকলরে গেইম দের, বৃহস্পতিবারের মধ্যে টেকা (টাকা) সাড়ে সাত লাখ না দিলে গাড়ির তলে পইড়া মরমু, পরে গরু, জমি বিক্রি কইরা কিছু টেকা সুদে আইন্না সাড়ে সাত লাখ পাঠাইছি।’

চাচা আঙ্গুর মিয়া বলেন, 'কয়েকদিন ধইরা ফোন ধরে না। শনিবারে তার লগের একজনে কয় হে মারা গেছে।'

এরআগে, লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের চারজনসহ তিন উপজেলার ১০ জন রয়েছেন বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে তারা প্রাণ হারিয়েছেন। শায়েখ আহমদ জয় ওই ১০ জনের একজন।

আরও পড়ুন

×