‘সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার আত্মহত্যার সমান’
শ্যামনগরে বন প্রতিমন্ত্রী
শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালীনি ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বুধবার বক্তব্য রাখছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। ছবি: সমকাল
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:২০ | আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:২৪
বিষ দিয়ে সুন্দরবনের মাছ শিকারকে আত্মহত্যা করার সমান হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। বুধবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের মধু আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন কথা বলেন তিনি।
বনবিভাগের আয়োজনে উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানটি। সেখানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ফলে আগামী প্রজম্মের জন্য সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। এছাড়া সুন্দরবনের জীব ও প্রাণ-বৈচিত্র্য এমনকি বন্যপ্রাণী– সবকিছু ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এই বিষের জন্য।
প্রতিটি মাছের আড়তে পরীক্ষা চালিয়ে বিষ প্রয়োগে শিকার করা মাছ শনাক্তের পর ওই মাছ সরবরাহকারীর মাধ্যমে মূল শিকারী পর্যন্ত পৌঁছানো হবে বলেও সতর্ক করে দেন শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। তিনি একইভাবে সুন্দরবনে দস্যু তৎপরতায় জড়িতদের আটকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর ঘোষণা দেন।
উপকূলবাসীর সুপেয় পানি নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গোলপাতা সংগ্রহের অনুমতিও দেওয়া হবে। সুন্দরবনে তৎপর জলদস্যুরা যাদের সহায়তায় অপকর্ম করবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
সুন্দরবন ঘিরে পর্যটনশিল্পের বিকাশসংক্রান্ত এলাকাবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন জানান শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পর্যটন নগরী গড়ে তোলার আগে স্থানীয় লোকজনের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। জলদস্যু তৎপরতা বন্ধসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই এলাকার প্রতি পর্যটকের আস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনে যাওযার জন্য প্রস্তুত মৌয়ালদের হাতে পাশ বা অনুমতিপত্র তুলে দেন। এ ছাড়া সুন্দরবনে তৎপর জলদস্যুদের বিরুদ্ধে তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে উপস্থিত র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। পরে প্রতিমন্ত্রী লায়ন তিনি সাতক্ষীরায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে মধু আহরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, র্যাব সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াহেদ, সোলায়মান কবির।
