ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যশোর গণহত্যা দিবস

অধিকাংশ শহীদ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভ

অধিকাংশ শহীদ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভ
×

শহরের টাউন হল ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে স্মরণসভার আয়োজন করে গণহত্যা দিবস পালন কমিটি। ছবি-সমকাল

যশোর অফিস 

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:৩৫

যশোর গণহত্যার অধিকাংশ শহীদ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাদের স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা ও সুধীজনেরা। শনিবার সন্ধ্যায় যশোর গণহত্যা দিবসে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শহরের টাউন হল ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে এই স্মরণসভার আয়োজন করে গণহত্যা দিবস পালন কমিটি। সভায় বক্তারা শহীদদের কবর সংরক্ষণ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান।

স্মরণসভায় মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোরের মুজিববাহিনীর উপপ্রধান রবিউল আলম বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি তখনকার মতো এখনও সক্রিয় রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের রং-রূপ-চেহারা পাল্টালেও চরিত্র পাল্টায়নি। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তারা দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারে। 

তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল যশোরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের শিকার হন যশোরের অর্ধশতাধিক রাজনীতিক, শিক্ষক, ছাত্র, পেশাজীবী ও ধর্মীয় নেতা। কিন্তু সেই গণহত্যার অধিকাংশ শহীদ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। শহীদদের স্মরণে নেই কোনো স্মৃতিস্মারকও। শহীদদের স্বীকৃতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরছেন স্বজনেরা। দ্রুত শহীদদের কবর সংরক্ষণ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, একাত্তরের গণহত্যায় জড়িত খুনিরা আজও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ১৯৭১-এর ইতিহাস অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। সেই সময়ের গণহত্যায় ইন্ধনদাতা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যুক্তরাষ্ট্র আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণহত্যায় মদদ দিয়ে যাচ্ছে। তাদের আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের ফলে আজ গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

গণহত্যা দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল, শহীদ পরিবারের সদস্য হাসিনুর রহমান, কাজী কিরণ, মিজানুর রহমান, রিয়াদুর রহমান, গণহত্যা গবেষক নবনীতা তপু প্রমুখ। এর আগে সকালে শহরের শংকরপুর বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল যশোরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা শহরজুড়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেই দিনের গণহত্যায় ৫১ জনের নিহতের কথা বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। শহীদদের স্বজনরা জানান, ওইদিন যশোর ক্যান্টনমেন্টের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন বাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। গুলি ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে অর্ধশতাধিক বাঙালিকে। এদিন সবচেয়ে বড় ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে যশোর রেলস্টেশন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। এছাড়া যশোর শহরের গুরুদাসবাবু লেন, শহরের ক্যাথলিক গির্জাতেও হামলা হয়। সেখানে ইতালীয় ফাদার মারলো ভারনেসিসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন

×