আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা
নারায়ণগঞ্জে ১০৯টি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শহীদ বেদিতে সাংস্কৃতিক জোটের শ্রদ্ধা সমকাল
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বন্দর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে ১০৯টি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। বন্দর গণহত্যা তার অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধের যথাযথ ইতিহাস সংরক্ষণ এবং এর ওপর ভিত্তি করেই আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত গণহত্যার প্রকৃত তথ্য ও চিত্র এখনও আমাদের মূল ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারাটা দুঃখজনক ও চরম ব্যর্থতা।
গতকাল শনিবার বন্দর সিরাজদ্দৌলা ক্লাব মাঠে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রফিউর রাব্বি। অনুষ্ঠানটির আয়োজক নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিন।
বক্তব্য দেন রফিউর রাব্বি, মুক্তিযোদ্ধা কাজী নাসির ও আশরাফ খান, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সাবেক সভাপতি জিয়াউর ইসলাম কাজল ও প্রদীপ ঘোষ বাবু, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, সিপিবির শহর কমিটির সভাপতি আবদুল হাই শরীফ, শহীদ পরিবারের সন্তান ফাহমিদা আজাদ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকার, সামাজিক সংগঠন সমমনার উপদেষ্টা দুলাল সাহা প্রমুখ।
রফিউর রাব্বি বলেন, বন্দর গণহত্যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক নির্মমতম হত্যাকাণ্ড। একাত্তরের ৪ এপ্রিল ভোররাতে এলাকার বিহারিদের সহায়তায় নবীগঞ্জঘাট ও দক্ষিণের কেরোসিনঘাট দিয়ে একসঙ্গে বন্দরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। নবীগঞ্জ দিয়ে পার হওয়া গ্রুপটি ইস্পাহানি ও জেলেপাড়ার বহু বাড়িঘর গানপাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় এবং লোকজনকে ধরে নিয়ে বন্দর সিরাজদ্দৌলা ক্লাব মাঠে হাজির করে। অন্যদিকে কেরোসিনঘাট দিয়ে পার হওয়া গ্রুপটি সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে থাকে। দুটি আখড়া ও মন্দির গানপাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সিরাজদ্দৌলা ক্লাব মাঠে সকালে ৫৮ জনকে পাকিস্তানি সেনারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে প্রথমে গুলি করে হত্যা করে, পরে গানপাউডার দিয়ে লাশ পুড়িয়ে দেয়। রাতে এলাকাবাসী ৫৪ শহীদকে এই বধ্যভূমিতে গণকবর দেয়।
মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ খান বলেন, বন্দর গণহত্যার দিনটি অবহেলায় পালিত হয়। সরকার প্রশাসনের কোনো দায় থাকে না। সাংস্কৃতিক জোটের সঙ্গে সবাইকে যুক্ত হয়ে সম্মিলিতভাবে দিবসটি পালনের দাবি জানান তিনি।
আলোচনায় বক্তারা চব্বিশের অভ্যুত্থানকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর বর্তমান প্রয়াসের নিন্দা জানিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এর আগে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, শহীদ পরিবার, জেলা সিপিবি, জেলা বাসদ, উন্মেষ সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
- বিষয় :
- গণহত্যা
