আবু সাঈদ হত্যা মামলা: প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্য না নেওয়ার অভিযোগ
ছবি : সমকাল
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৪:৩০
আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগের প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থানকে বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত থাকলেও তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে না।
গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন সোহাগ।
তিনি সোহাগ বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের শুরু থেকে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত আমি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পাশে ছিলাম। পাশাপাশি একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে শুরু থেকেই এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছি এবং বরাবর প্রস্তুত ছিলাম তা করার জন্য। অথচ তা সত্ত্বেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও আমার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। নিজ অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে পেনাল কোর্ট ১৮৬০ সালের ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় রংপুরের তাজহাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার জিআর নম্বর ১১১/২০২৪ শুরুতেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে ছিল। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে এই মামলা পিবিআই থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আমি বিভিন্ন তথ্য ও মৌখিক জবানবন্দি প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করি।
২৭ আগস্ট আমাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক ওই মামলার সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকা হয়। সাক্ষীদের রেকর্ড বইয়ে আমার নামে একটি সাক্ষ্যের খসড়া দেখতে পাই। খসড়াটি পড়ে দেখি আমার প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সোহাগ বলেন, আমি তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করি। এই খসড়ার ভিত্তিতে সাক্ষ্য দিতে আপত্তি জানাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে আমাকে পুনরায় ডাকা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে আমাকে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল থেকে ডাকা হয়নি।
তিনি জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও সোহাগের সাক্ষ্য গ্রহণ না করা হলে এটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
