ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ফুলবাড়ীতে ১ ঘণ্টার শিলা বৃষ্টি-ঝড়ে ১০ গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ফুলবাড়ীতে ১ ঘণ্টার শিলা বৃষ্টি-ঝড়ে ১০ গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
×

ফুলবাড়ীতে ক্ষতিগ্রস্ত ধানের খেত ও টিনের চাল। ছবি-সমকাল

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:৪৯

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মঙ্গলবার বিকেলের বিরতিহীন এক ঘণ্টার শিলা বৃষ্টি এবং ঝড়ে উঠতি ফসল, ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৯ থেকে ১০টি গ্রামের শতভাগ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিমের সীমান্তবর্তী এলুয়াড়ী ইউনিয়নের ৮ থেকে ৯টি গ্রামে ব্যাপক শিলা বৃষ্টি ও ঝড় হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা টানা এই শিলাবৃষ্টি-ঝড়ে অপরিপক্ব ধান, আম, লিচু, ভুট্টা, গো খাদ্য ঘাস ও শাক সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার ওজনাকৃতি ছিল প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ গ্রামের মত। সেই শিলায় ঘরের টিন ঝাঁঝরা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, মঙ্গলবারে শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার এলুয়ারী ইউনিয়নেই শুধু ১ হাজার ৫২৮.০৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বোরো ধান ১৫০০, ভুট্টা ১০, শাকসবজি ৫, আম ৫, কলা ৫, পেঁপে ১, সজিনা ১, কাঁঠাল ১, মাল্টা ০.৫ হেক্টর জমির।

জলপাইতলী গ্রামের আনোয়ার হোসেন, আব্দুর রশিদ, পানিকাটা গ্রামের আলমগীর হোসেন, জোয়ার গ্রামের রফিকুল ইসলাম, মোস্তাক আহমেদ জানান, গতকালকের শিলা বৃষ্টি-ঝড়ে ফসলের এবং টিনের চালার এতটাই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যে, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার মতো না। প্রতিটি শিলার ওজন ছিল সর্বোচ্চ ৪০০ গ্রামের মতো। বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটা টানা এই শিলা বৃষ্টি ঝড়ে ধান আম লিচুর প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। টিনগুলো ফুটো হয়ে গেছে। বোরো ধান গামোড় (শীষ এসেছে) হয়েছে। এমন অবস্থায় সেই ধান আর হবার কথা নয়।

গতকাল রাতেই দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম উপজেলার এলুয়ারী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এলুয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নবিউল ইসলাম বলেন, এক ঘণ্টার শিলাবৃষ্টিতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। দশটির বেশি গ্রামের ফসল একবারে শেষ হয়ে গেছে। টিনের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলার এলুয়ারী  ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতি ভালোই হয়েছে। এখনও পরিসংখ্যান অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত ৪টি গ্রাম পরিদর্শন করেছি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×