মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রমজান আলী কারগারে
কারাগারে নেওয়া হচ্ছে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রমজান আলীকে। ছবি-সমকাল
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫:২৭ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:৩৬
দুদকের মামলায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের সাবেক স্বামী মো. রজমজান আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ এসকে এম তোফায়েল হাসান।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় আদালতে জামিনের জন্য আসেন সাবেক মেয়র রমজান আলী। বিচারক উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের দক্ষিণের জায়গা ভরাটের কাজ দেওয়া হয় মেসার্স মহুয়া কনস্ট্রাকশনের মালিক জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম মট্টুকে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যতিরেকে পৌর মেয়র রমজান আলী একই কাজ বারবার বর্ধিত করেন। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে ১৯৯৯ সালে পৌরসভার তহবিল থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৭৮০ টাকাও আত্মসাৎ করেন। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ কাঁচা বাজারের দক্ষিণ পাশের খাদ ভরাটের কাজও দেওয়া হয় আমিরুল ইসলাম মট্টুকে। পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়া স্বত্বেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যতিরেকে পৌর মেয়র রমজান আলী একই কাজ বারবার বর্ধিত করে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে করে তিন লাখ ২৫ হাজার ৩৩০ টাকা আত্মসাৎ করেন। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ বাদী হয়ে পৌর মেয়র মো. রমজান আলী ও আমিরুল ইসলাম মট্টুকে আসামি করে ২০০৭ সালের ৩ মে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
অপর আরেকটি মামলায় সাবেক মেয়র রমজান আলী ও তৎকালীন পৌর সভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হামিদুর রশিদ কাজলের যোগসাজশে ২০০৪ সালে মানিকগঞ্জ পৌরসভার জিপ মেরামতের নামে দুটি চেকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা অগ্রিম তুলে তা আত্মসাৎ করেন। এরপর ২০০৬ সালে হামিদুর রশিদ কাজল জিপ মেরামতের জন্য দুটি চেকের মাধ্যমে আরও এক লাখ টাকা অগ্রিম তুলে তা আত্মসাৎ করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
এসব মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা তিন মামলায় চার্জ গঠন করেছেন আদালত। এসব মামলায় অভিযুক্ত আছেন পৌরসভার সাবেক মেয়র রমজার আলী, পৌরসভার সাবেক কমিশনার হামিদুর রশিদ কাজল, ইকবাল হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মট্টু। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে ৩ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম।
এদিকে দুদকের করা তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন সাবেক মেয়র রমজান আলীসহ অন্য আসামিরা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মানিকগঞ্জ ছাড়া হন রমজান আলী। এই কারণে তিনি আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে পারেনি। চলতি বছর ১ ফেব্রুযারি আদালতের বিচারক আসামি রমজান আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আজ বৃহস্পতিবার রমজান আলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক এসকে এম তোফায়েল হাসান আইনজীবীদের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে করাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এটিএম শাহজাহান বলেন, সাবেক মেয়র রমজান আলী বার বার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাকে রাজনৈতিক ভাবে হয়রানি করার জন্য এসব মামলা করা হয়েছিল। বিচারকের প্রতি আমাদের আস্থা আছে আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে আসামি রমজান আলী জামিন পেয়ে যাবেন।
দুদকের আইনজীবী স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) দেওয়ান মো. মিজানুর রহমান বলেন, আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকালে নিয়মিত হাজিরা দিতে না পারায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলেও আইনুযায়ী বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
