সাংগ্রাই উৎসবে কুয়াকাটায় বর্ষবরণ
জলকেলিতে মাতল তরুণ-তরুণীরা
ছবি: সংগৃহীত
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৩:৪৫ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৩:৫০
সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পরিণত হয়েছে আনন্দ, ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির মিলনমেলায়। রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি সাংগ্রাই রিলং পোয়ে ঘিরে তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাসে মুখর পুরো এলাকা। সাংগ্রাই গানের তালে তালে যুবক-যুবতীরা অংশ নেন এ প্রাণবন্ত জলকেলিতে। একে অপরের দিকে পানি ছিটিয়ে তারা প্রতীকীভাবে বিদায় জানান পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট, জীর্ণতা ও গ্লানিকে। নতুন আশায় বরণ করে নেন নতুন বছরকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট মাঠে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী এ উৎসব। ফিতা কেটে ও পানি ছিটিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন মহিপুর থানার ওসি মোহাব্বত খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘কুয়াকাটায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ ধরনের সামাজিক উৎসবই আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার প্রধান মাধ্যম।’ তিনি বলেন, সাংগ্রাই এখন আর শুধু রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি সব জাতিগোষ্ঠীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ যে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, এ মিলনমেলাই তার উজ্জ্বল প্রমাণ। পাশাপাশি তিনি পর্যটকদের জন্য বিনোদনের ঐতিহ্য রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ বিশ্বাস করেন, এ জলকেলির মাধ্যমে জীবনের সব অশুভ শক্তি ধুয়ে-মুছে যায়। একই সঙ্গে এটি তরুণ-তরুণীদের পারস্পরিক পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুন্দর সামাজিক সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত।
দিনভর উৎসবে ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় রাখা পানি দিয়ে একে অপরকে ভেজান তরুণ-তরুণীরা। পবিত্র পানি ছিটানোর মাধ্যমে তারা গড়ে তোলেন মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। বাদ্যের তালে তালে এ আনন্দঘন আয়োজন পুরো এলাকায় সৃষ্টি করে নান্দনিক আবহ। জলকেলির পাশাপাশি চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ হাজারও মানুষ অংশ নেন এ উৎসবে। ফলে এটি পরিণত হয় পাহাড়ি ও বাঙালির মিলনমেলায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতিবছর এ উৎসব কুয়াকাটার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ঐতিহ্য আরও বড় পরিসরে উদযাপিত হবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আমখোলা পাড়ার বাসিন্দা সীমা রাখাইন বলেন, ‘সাংগ্রাই আমাদের সবচেয়ে আনন্দের উৎসব। এই দিনে আমরা সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। জলকেলির মাধ্যমে আমরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই এবং সবার সঙ্গে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করি।’
কুয়াকাটা রাখাইন উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি এ মং তালুকদার বলেন, ‘সাংগ্রাই আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি তুলে ধরতে চাই। শুধু রাখাইন সম্প্রদায় নয়, সব জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে এটি এখন সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে উদযাপিত হোক।’
- বিষয় :
- কুয়াকাটা
