নাটোরের বড়াইগ্রাম
কারাগারেই পরিকল্পনা হয় পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ডাকাতির ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই দিনের অভিযানে দেশের কয়েকটি জেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গভীর গজারি বন থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার লুণ্ঠিত মালপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, কারাগারে থাকা অবস্থায় বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় নির্মাণাধীন অরক্ষিত পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির পরিকল্পনা করে দুটি দল।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ২০-২৫ জন সশস্ত্র ডাকাত হামলা চালায়। তারা সেখানে কর্মরত চারজন অপেশাদার পাহারাদারকে বেঁধে এক কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালপত্র লুটে ট্রাকে নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বড়াইগ্রাম থানায় ডাকাতির অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ৩৫-৪০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
এসপি বলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহায়তায় ৪৮ ঘণ্টায় নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–বগুড়ার নন্দীগ্রামের তসলিম প্রামাণিক, শিবগঞ্জের আব্দুস সালাম ও বাছেদ মণ্ডল; পাবনার ফরিদপুরের রোকন মোল্লা ও মন্টু মোল্লা, চাটমোহরের শিহাব উদ্দিন; সিরাজগঞ্জের তাড়াশের রুহুল আমিন, জামালপুরের ইসলামপুরের মো. সৈকত, গাজীপুরের শ্রীপুরের হারুন অর রশীদ, উজ্জ্বল মোড়ল; নাটোর সদরের জাহাঙ্গীর আলম, সাইফুল ইসলাম ও নায়েব আলী এবং মো. রুহুল আমিন।
পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবের ভাষ্য, রুহুল আমিন ও মো. সৈকত দুটি ডাকাত দলের নেতা। তারা কারাগারে থাকা অবস্থায় বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় নির্মাণাধীন অরক্ষিত পাওয়ার গ্রিডের উপকেন্দ্রে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর যৌথভাবে দুটি দলের ডাকাতেরা দলবদ্ধভাবে ২৬ মার্চ সেখানে ডাকাতি করে। গ্রেপ্তারের সময় ওই ১৩ জনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাওয়ার গ্রিডের প্রায় সোয়া কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ১০টি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালপত্র উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ১৩ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে গতকাল শুক্রবার বিকেলে বড়াইগ্রাম আমলি আদালতের মাধ্যমে তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- ডাকাতি
