ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মবের শিকার দুই শিক্ষককে যোগদানে অসহযোগিতা

মবের শিকার দুই শিক্ষককে যোগদানে অসহযোগিতা
×

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মবের শিকার হয়ে চাকরি থেকে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন চার শিক্ষক। তাদের মধ্যে দুই শিক্ষককে বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যোগ দিতে পারছেন না তারা। অপর দুজনের মধ্যে একজন চাকরিতে যোগ দিতে সক্ষম হলেও অপরজন হতাশা থেকে চাকরিতে পুনবর্হালের চেষ্টা করেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সীতাকুণ্ডে মবের শিকার হয়ে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন উপজেলার ভাটিয়ারী হাজি তোবারক আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কান্তি লাল আচার্য্য, মাদাম বিবিরহাট শাহাজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ বি এম গোলাম নূর, টেরিয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন চক্রবর্তী ও সীতাকুণ্ড বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিমেল শর্মা রানা। অভিযোগ রয়েছে, মবের শিকার দুই শিক্ষককে জেলা শিক্ষা অফিস ও মন্ত্রণালয় থেকে স্বপদে যোগদানের নির্দেশ দিলেও ইউএনওর অসহযোগিতায় তারা যোগদান করতে পারছেন না।

মাদাম বিবিরহাট শাহাজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ বি এম গোলাম নূর অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সাহাব উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে মব সৃষ্টি করে তাঁকে পদত্যাগ করতে চাপ দেওয়া হয়। তিনি পদত্যাগ না করায় তাঁকে স্কুল থেকে বের করে দেয় মবকারীরা। পরে তিনি জেলা শিক্ষা অফিসে এসব বিষয় জানালে তাঁকে কাজে যোগদানে সহযোগিতা করতে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে (ইউএনও) অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো সহযোগিতা না করায় তিনি বিদ্যালয়ে যেতে পারছিলেন না। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি বিদ্যালয়ে যোগ দিতে গেলে আগের মবকারীরা তাঁকে লাঞ্ছিত করে। তিনি সভাপতির কাছে অভিযোগ জানালেও বিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি।
টেরিয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন চক্রবর্তীর ভাষ্য, গত ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর শতাধিক মবকারী প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। সেই থেকে তাঁর বেতন বন্ধ। এর আগে ২৪ সালের ১ জুন তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে মতানৈক্যে হলে কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁকে জোর করে পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য করেন। তারা একটি রেজুলেশন করে তাতে লেখেন পদত্যাগপত্র নেওয়া হলেও তিন মাসের মধ্যে এই শিক্ষকের অন্যত্র চাকরি হলে পরে তা বিবেচনা করা হবে। পরে ১ সেপ্টেম্বর তাঁকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়ে ১ জুন পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে লিখে দেন।

রতন চক্রবর্তী বলেন, এসব বিষয়ে আমি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত করে। এই তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণ হলে মন্ত্রণালয় তাঁকে পুনরায় স্বপদে বহাল ও তাঁর বেতন চালুর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতিকে নির্দেশনা দিলেও তিনি তা আমলে নেননি।
মবের শিকার অপর শিক্ষক ভাটিয়ারী হাজি তোবারক আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কান্তি লাল আচার্য্য বলেন, এসব বিষয়ে তাঁর অভিযোগ নেই।
এদিকে মবের মাধ্যমে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার পর আর স্কুলে ফেরেননি সীতাকুণ্ড বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিমেল শর্মা রানা। তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন তাও কেউ জানে না।
এসব বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোর সভাপতি ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ভাটিয়ারী স্কুলের সমস্যাটি সমাধান হয়ে গেছে। মাদাম বিবিরহাটের শিক্ষক গোলাম নূরের চাকরি যায়নি, বেতন চলছে। নিরাপত্তার কারণে তিনি আসতে পারছেন না। নিরাপত্তার ব্যবস্থা কেন করা হচ্ছে না– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শিগগিরই এটি সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী। শিক্ষক রতন চক্রবর্তী সরকার পতনের আগেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। তাই মবের সঙ্গে তাঁর ঘটনার সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া হিমেল শর্মা রানার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

আরও পড়ুন

×