বাড়ি থেকে কিশোরীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৫:২৭
বাড়ি থেকে কিশোরীকে তুলে নেওয়ার মামলায় গতকাল শনিবার সাতজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অক্ষত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আসমা জাহান তার বক্তব্য রেকর্ড করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এসআই লালচান মিয়া। এর আগে বৃহস্পতিবার গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
ভুক্তভোগী কিশোরী শ্রীপুরের একটি মসজিদের ইমাম ও খতিবের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। মামলার প্রধান আসামি আবিদ হোসেন স্থানীয় বাসিন্দা সুরুজ মিয়ার ছেলে। আবিদ একটি মুদি দোকানি। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে তার মা আবিদা খাতুন, চাচা, চাচিসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায় আবিদ। পরদিন সকাল ১০টার দিকে তাকে বাড়িতে দিয়ে যায়। এ বিষয়ে সেদিন বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন নিয়ে সালিশ বসার কথা ছিল। এমন সময় আবিদ তার লোকজন নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে মেয়েটিকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর কিশোরীর বাবা ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েকে উদ্ধারের আবেদন জানান। ওই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরই ফেসবুকে আবিদ এবং ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে মর্মে একটি নোটারি পাবলিকের কপি ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, তারা গত ১৫ এপ্রিল নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ওই ছাত্রী আদালতকে জানিয়েছেন, জোর করে তার বিয়ে পড়ানো হয়েছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর সঙ্গে আবিদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
নোটারি পাবলিকের রেজিস্ট্রেশনটি ভুয়া বলে দাবি করেছেন ছাত্রীর বাবা। তিনি জানান, আবিদের সঙ্গে তাঁর মেয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবে এলাকার একজনের মাধ্যমে তাঁর মেয়েকে আবিদ পছন্দ করে বলে শুনেছেন। এতে তাঁর মেয়ের সম্মতি ছিল না।
গতকাল শনিবার বিকেলে আবিদের বাড়ি গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি আবিদ পরিচালিত মুদি দোকানও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে পরিবারের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মেয়েটিকে প্রথমবার তুলে নেওয়ার পর বাড়িতে ফেরত দিলে এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহজাহান সজল। সমকালকে তিনি জানান, অল্প পরিসরের ওই সালিশে আবিদ ও মেয়েটি বিয়ের কথা স্বীকার করে। কিন্তু তাৎক্ষণিক কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে বিষয়টি মেনে নেননি মেয়েটির বাবা। সালিশ শেষ হলে আবিদ ও তার লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে কিশোরীকে নিয়ে যায়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির আহমদ জানান, ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
