ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাজীপুর

ভূমিহীন পল্লিতে চাঁদার অত্যাচার

ভূমিহীন পল্লিতে চাঁদার অত্যাচার
×

বিএনপি নেতার চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গতকাল মানববন্ধন করেন ভূমিহীন পল্লির বাসিন্দারা সমকাল

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

কেউ রিকশাচালক, কেউ জেলে; কেউ কাজ করেন রুটির দোকানে; কেউ  পোশাক কারখানার শ্রমিক। দিনমজুরের সংখ্যাও কম নয়। কেউ কেউ উচ্চশিক্ষিত হয়ে করছেন শিক্ষকতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি। স্বাধীনতার আগে থেকেই এমন শতাধিক পরিবার একত্রে বসবাস করছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গিলাশ্বর গ্রামে ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত কালেক্টরি বা বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড হওয়া ওই এলাকা ভূমিহীন পল্লি হিসেবে পরিচিত। ৮৬ একর কালেক্টরি জায়গার কিছু অংশ কেউ বন্দোবস্ত পেয়েছেন, কেউ আবার বন্দোবস্ত ছাড়াই বসবাস করছেন। 

বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে বসবাসে কোনো বাধা না এলেও সম্প্রতি ভূমিহীনদের ওই পল্লিতে নজর পড়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান শামীমের। তিনি তাঁর ‘বাহিনী’ দিয়ে কয়েক মাস ধরে পল্লির লোকজনের ওপর অত্যাচার শুরু করেছেন। সেখানকার বাড়িঘরের কোনো একটিতে সামান্য কাজ করলেও শামীম বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। ভূমিহীন পল্লিতে বাড়িঘর মেরামত, নতুন কোনো ঘর তৈরি কিংবা কোনো গাছের চারা রোপণ করতে গেলেও চাঁদা দেওয়া অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সেখানকার বাসিন্দারা। 

বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান শামীমের নেতৃত্বে স্থানীয় আজিজুল, রাশিদুল, হৃদয়, মোর্শেদ, কবির, মাজাহারুল ও কলু মিয়া এই চাঁদাবাজি করে আসছেন। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওই পল্লির শত শত নারী-পুরুষ-শিশু রাস্তায় নেমে আসেন। গতকাল মঙ্গলবার  চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি নিয়ে তারা গিলাশ্বর এলাকায় বিক্ষোভ করে নানা অত্যাচারের কথা তুলে ধরেন। 
ওই এলাকার সেলিম বক্সের ছেলে ফিরোজ বক্স বলেন, ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা এখানে বসবাস করছি। কখনও কোনো সমস্যা হয়নি। সম্প্রতি আমার বাড়িতে একটা স্থাপনা তৈরি করতে গেলে বিএনপি নেতা শামীম ও তার লোকজন এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৮ এপ্রিল আমার ওপর হামলা চালায়। বেদম পিটুনি দেয়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির আহমদ বলেন, এ ঘটনায় ফিরোজ বক্স বাদী হয়ে শামীমসহ ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। তদন্ত চলছে।   

এলাকার বাসিন্দা ফিরোজা বেগম বলেন, বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান শামীম ও তার সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। একটি বাথরুম নির্মাণ করতেও চাঁদা দিতে হয়। টাকা না দেওয়ায় আমার মেয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় মেয়ে মুক্তাকে। তিনি বলেন, মেয়েটি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইমরান  হোসেন নামে একজন বলেন, চাঁদা না দিলে শামীম বাহিনীর সদস্য হৃদয় আমাকে  দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। 
অভিযোগ অস্বীকার করে বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান শামীম সমকালকে বলেন, আমার কোনো পালিত বাহিনী নেই। আমি কারও কাছে কখনও চাঁদা দাবি করিনি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ঘায়েল করতে স্থানীয় একটি মহল এলাকাবাসীকে উস্কে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব করাচ্ছে। 
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ বলেন, এ ঘটনায় ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিএনপির কোনো সদস্য যদি দোষী প্রমাণিত হয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রীপুর থানার ওসি নাছির আহমদ বলেন, চাঁদা দাবির এ রকম একটি ঘটনার খবরই আমাদের কাছে আছে। সে ঘটনায় মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×