পদ্মায় জেলের বড়শিতে কুমির
কুমিরটির জন্ম নোনাপানিতে খাবারের খোঁজে মিঠাপানিতে
পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে আটকা পড়া কুমিরটি উদ্ধারের পর সোমবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার কাজীবাড়ির ঘাটে বেঁধে রাখা হয় সমকাল
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে আটকা পড়েছে একটি কুমির। জেলেরা কুমিরটিকে না মেরে আটক করে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের কাজীবাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্থান্তর করার পর এটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে খুলনায়।
বন বিভাগের প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য্য জানান, উদ্ধার হওয়া কুমিরটি নোনাপানিতে জন্মেছে। খাবারের খোঁজে সম্ভবত এটি মিঠাপানিতে ঢুকে পড়েছে। পুরুষ কুমিরটির দৈর্ঘ্য ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি। এটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর পরিচর্যা ও চিকিৎসা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে প্রাণীটি কোথায় অবমুক্ত করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার সকাল ৭টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর চর এলাকায় পদ্মা নদীতে জেলে স্বপন বেপারীর পাতা হাজারী বড়শিতে কুমিরটি জড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্বপন বেপারী তার দুই ছেলে রাজিব বেপারী, রবিউল বেপারীসহ পাঁচজন মিলে কুমিরটি উদ্ধার করে নদীতীরে নিয়ে আসেন। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার চর সালেপুর এলাকায়। সেখান থেকে সকাল ৮টার দিকে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের কাজীবাড়ির ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শত শত মানুষ কুমিরটি দেখতে ভিড় করেন।
স্বপন বেপারী জানান, তিনি প্রতিদিন পদ্মা নদী থেকে বড় বড় মাছ শিকারের জন্য হাজারী বড়শি পাতেন। আগের রাতে বড়শি পেতেছিলেন গোপালপুর চর এলাকায়। গতকাল সকালে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একটি কুমির অসংখ্য বড়শি ও সুতার সঙ্গে আটকা পড়ে আছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি কুমির মারা অপরাধ। এজন্য আমি আমার দুই ছেলে ও অন্যদের সহায়তায় নদী থেকে উঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করার জন্য কাজিবাড়ির ঘাটে নিয়ে আসি।’
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিরটি কাজীবাড়ির ঘাট এলাকায় পানির মধ্যে একটি বাঁশ পুঁতে তার সঙ্গে বেধে রাখা হয়েছে। খুলনা থেকে আসা উদ্ধার দলটির হাতে কুমিরটি বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত কেউ যাতে এটির কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য এলাকায় পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে।
স্থানীয় দর্শনার্থী নার্গিস সুলতানা (৪২) জানান, তিনি তাঁর দুই শিশুসন্তান নিয়ে কুমির দেখতে আসছেন। বাচ্চাদের নিয়ে কখনও চিড়িয়াখানায় যাওয়া হয়নি। বাস্তবে কুমির দেখানোর জন্য ছুটে এসেছেন নদীতীরে।
বন বিভাগ ফরিদপুরের ফরেস্ট রেঞ্জার তাওহীদ হোসেন জানান, কুমিরটি
হস্তান্তর পর্যন্ত ফরিদপুরের চারজন বন বিভাগের কর্মী বেঁধে রাখা কুমিরটির দেখভাল করেন।
- বিষয় :
- কুমির
