নিম্নমানের ইট দিয়ে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা, বিক্ষোভে কাজ বন্ধ
এলজিইডির নির্দেশে নতুন করে ১ নম্বর ইট দিয়ে কাজের আশ্বাসে শান্ত এলাকাবাসী
সংগৃহীত
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:২২
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় নিম্নমানের ইট দিয়ে সড়ক নির্মাণের অভিযোগে এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরে উন্নতমানের ইট ব্যবহার করে নতুন করে কাজ করার নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বুধবার উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরপুর এলাকার প্রায় ৩০০ মিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা থাকায় এলাকাবাসীকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এ সড়কটি পাকা করার জন্য ৪০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। কাজটি পায় শাজাহানপুর উপজেলার ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কাজ শুরুর পরই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর দাবি, দরপত্র অনুযায়ী ১ নম্বর ইট ব্যবহার করার কথা থাকলেও ঠিকাদারের লোকজন নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট ও খোয়া ব্যবহার করে সড়কের কাজ শুরু করে। বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভের মুখে এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়, নির্ধারিত মান অনুযায়ী ১ নম্বর ইট ব্যবহার করে নতুন করে কাজ করতে হবে। এতে এলাকাবাসী শান্ত হন।
নেপালতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী গামা বলেন, ‘রাস্তাটি ছোট হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এই সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কাজ শুরুর পরই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় আমরা প্রতিবাদ করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘১ নম্বর ইট দিয়েই কাজ করা হচ্ছিল। তবে একটি স্থানে ভুলবশত ২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছিল। সেটি সরিয়ে সেখানে ১ নম্বর ইট দেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাজেদুর রহমান বলেন, ‘দরপত্র অনুযায়ী সড়ক নির্মাণে ১ নম্বর ইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কিছু স্থানে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে নতুন করে নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে জন্য কাজের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
