প্রশ্নবিদ্ধ জমি ক্রয়ে বিসিসির ৫ কোটি টাকা গচ্চার শঙ্কা
বায়না চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ১২ মে
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩০ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় জমি কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। ৭ একর ৩২ শতাংশ জমি কিনতে গত নভেম্বরে পাঁচ কোটি টাকার বায়না হয় এক জমি মালিকের সঙ্গে। এদিকে এ জমি কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ও উচ্চ আদালতের রিটে প্রক্রিয়াটি ঝুলে যায়। এতে জমির বায়না চুক্তির মেয়াদও প্রায় শেষের পথে। আগামী ১৩ দিনের মধ্যে বিসিসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলে আইনি প্যাঁচে বায়নার পাঁচ কোটি টাকা গচ্চা যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাত একর ৩২ শতাংশ জমির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে লেম্বুচরমুখী সড়ক ধরে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরত্বে এ জমির অবস্থান। জমি মালিক মোস্তফা শিবলির সঙ্গে বিসিসি গত ১২ নভেম্বর বায়না চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এ বাবদ অগ্রিম দেওয়া হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। ছয় মাস মেয়াদি বায়নার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১২ মে। আইন অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করে জমি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোনো কারণে ক্রয় করা না হলে, নোটিশের মাধ্যমে দুপক্ষকে অবশ্যই সমঝোতায় যেতে হবে। অন্যথায় মামলা জটিলতায় বিসিসির পাঁচ কোটি টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, বিসিসির সাবেক প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার (বর্তমানে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব) মো. রায়হান কাওছার ওই জমি ক্রয়ের উদ্যেগ নেন। বিসিসির এ জমি ক্রয় ও রিসোর্ট করার যৌক্তিকতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। উচ্চ আদালত গত ১৭ নভেম্বর জমি কেনার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। সংশ্লিষ্টরা এর বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ১০ মার্চ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ।
এদিকে গত ১৬ মার্চ বিসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। ওই জমি কিনবেন নাকি প্রত্যাখ্যান করবেন– এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি নতুন প্রশাসক।
বরিশাল জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. মাসুদ সমকালকে বলেন, জমি ক্রয়-বিক্রয়ে বায়না চুক্তি কোনো পক্ষ রক্ষা করতে না পারলে ওই পক্ষটি অপর পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে জানাতে হবে। তবে সেটা অবশ্যই চুক্তির মেয়াদের মধ্যে হতে হবে। কুয়াকাটায় জমির বিষয়টিতে বিসিসি ক্রেতা। তারা ক্রয় না করলে অবশ্যই ১২ মের মধ্যে জমি মালিককে নোটিশের মাধ্যমে জানাবেন এবং বায়নার টাকা বিসিসির অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার আহ্বান করবেন। সেটা না করে থাকলে পরবর্তী সময় আদালতের মাধ্যমে টাকা উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি হিসেবে জমি মালিক তখন আদালতের সহানুভূতি পাবেন। কারণ, বিসিসি বায়না চুক্তি না করলে তিনি অন্য কারও কাছে ওই জমি বিক্রি করতে পারতেন।
জমি মালিক মোস্তফা শিবলি বলেন, জমি বিক্রির জন্য তিনি বিসিসির সঙ্গে বায়না চুক্তি করেছেন। তারা এ পর্যন্ত জমি না কেনার বিষয়ে তাঁকে কিছু জানায়নি। তাই ধরেই নিয়েছেন, বিসিসি জমি ক্রয় করবে। শেষ পর্যন্ত যদি জমি না কেনে, তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরিনকে গতকাল মঙ্গলবার একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
- বিষয় :
- বরিশাল সিটি করপোরেশন
- কুয়াকাটা
- জমি
