দুই সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ কাশিয়ানীর ৩২ পরিবার
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে চলাচলের সড়কে প্রতিবন্ধকতার কারণে বিপাকে পড়েছে ৩২টি পরিবার। দুই সপ্তাহ ধরে উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের সীতারামপুরের এসব বাসিন্দা স্বাভাবিক চলাচল করতে পারছেন না। ধানসহ কৃষিজাত পণ্য পরিবহনেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষার্থীরাও যেতে পারছে না বিদ্যালয়ে। এ বিষয়ে ২১ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলেও সমস্যাটির সমাধান হয়নি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৫ এপ্রিল সীতারামপুর গ্রামের স্বপন শরীফ ও রমজান শরীফের নেতৃত্বে রাস্তার মাটি কেটে ফেলা হয়েছে। পরে সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি তারা রাস্তাটির মাঝে সরকারি খালের ওপর নির্মিত বাঁশ-কাঠের সাঁকোর একটি অংশও ভেঙে দিয়েছে।
তমিজ উদ্দিন সরদার ও জাহিদ খান নামে ভুক্তভোগী দুই ব্যক্তি বলেন, একই গ্রামের লেবু শরীফের বাড়ি থেকে জাহিদ খানের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ ফুট রাস্তা ও খালের ওপর একটি সাঁকো সরকারি টাকায় নির্মাণ করা হয়। ১৩ বছর ধরে এলাকার ৩২টি পরিবারসহ আশপাশের পরিবারের অন্তত ৪০০ মানুষ নিয়মিত ওই রাস্তা ব্যবহার করেন। ১৫ এপ্রিল স্বপন শরীফ ও রমজান শরীফের নেতৃত্বে রাস্তাটির প্রায় ১৫০ ফুট কেটে ফেলেন। পরে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া খালের সাঁকোর একটি অংশও ভেঙে দিয়েছেন তারা। রাস্তার মাঝেই রমজান ও স্বপন শরীফ ঘর তুলেছেন। এতে ৩২ পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
গৃহবধূ আরিফা বেগমের ভাষ্য, ধান কাটা মৌসুম চলছে। রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ধান আনা-নেওয়া করতে পারছেন না। ধান কেটে ক্ষেতেই রাখতে হচ্ছে। পাকা ধান নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
এ বিষয়ে রমজান শরীফ ও স্বপন শরীফের ভাষ্য, তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে তাদের জমির ওপর রাস্তা করা হয়েছে। নিজেদের জায়গা দিয়ে চলাচলের রাস্তা দেবেন না, তাই রাস্তা কেটে তাদের জায়গায় ঘর তুলছেন। তারা বেড়া দেওয়ার সত্যতাও স্বীকার করেন।
পুইশুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পিল্টন শিকদার বলেন, সরকারি খরচে নির্মিত রাস্তা তারা বন্ধ করতে পারেন না। তারা সাঁকোর একটি অংশও ভেঙে দিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন। পরে রামদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বিষয়টি মীমাংসার অনুরোধ করেন। তিনি (ইউপি সদস্য) চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে কাশিয়ানীর ইউএনও মো. শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমরা এটি আমলে নিয়েছি। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। আমরা দুই পক্ষকে ডাকব। তারপরও সমাধান না হলে বেড়া ভাঙার ব্যবস্থা করব।’
- বিষয় :
- পরিবার
