ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘নিহত’ কিশোরী সাত বছর পর জীবিত উদ্ধার, এলাকায় তোলপাড়

‘নিহত’ কিশোরী সাত বছর পর জীবিত উদ্ধার, এলাকায় তোলপাড়
×

ফাইল ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ২১:২০ | আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ | ২১:২৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় অপহরণ ও হত্যা মামলার কথিত ভিকটিম কিশোরী (১৭) নিখোঁজের সাত বছর পর জীবিত উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার রাতে ভোলাহাট-ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি সোমবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন। 

নিখোঁজের পর অপহরণ ও হত্যা মামলা 
২০১৯ সালের ৩১ মে খালেআলমপুর গ্রামের ওই কিশোরী নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘদিন তার কোনো সন্ধান না পেয়ে তার মা আদালতে অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলেও পরে একই ঘটনায় নতুন করে তদন্তের জন্য ২০২৪ সালে পুনরায় ভোলাহাট থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়। 

সাত বছর পর যেভাবে উদ্ধার

রোববার বিকেলে রাজশাহীর দিক থেকে ওই কিশোরী ভোলাহাটগামী বিআরটিসি বাসে ওঠে। সন্দেহজনকভাবে তাকে শনাক্ত করেন বাসের এক হেলপার মো. আলমগীর আলী। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে বিষয়টি বাস কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের জানানো হয়।
ইউপি সদস্য আব্দুল রাকিব জানান, মেয়েটিকে প্রথমে রাজশাহী এলাকায় সন্দেহজনক অবস্থায় দেখা যায়। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশকে জানানো হলে তাকে ভোলাহাটে আনা হয়। পরে পুলিশ আগে থেকেই বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিয়ে বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে থেকে তাকে হেফাজতে নেয়।

তদন্ত ও বিভ্রান্তিকর জবানবন্দি
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. কামাল হোসেন জানান, উদ্ধারের পর কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছে। কখনও কুষ্টিয়ায় থাকার কথা বলছে, আবার কখনও ঢাকার মিরপুরে থাকার কথা উল্লেখ করছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

ভোলাহাট থানার ওসি আব্দুল বারেক জানান, নিখোঁজের পর পুলিশ ও সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত করলেও হত্যা বা অপহরণের প্রমাণ না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে ২০২৪ সালে পুনরায় চারজনকে আসামি করে নতুন মামলা দায়ের হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। 

এলাকায় প্রশ্নের ঝড়

একটি হত্যা মামলার ভিকটিম সাত বছর পর জীবিত উদ্ধার হওয়ায় যেমন স্বস্তি এসেছে, তেমনি পুরো ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে তদন্ত, মামলা এবং সাত বছরের অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। কিশোরী কোথায় ছিল, কীভাবে ছিল এবং কেন তাকে ‘মৃত’ ধরে হত্যা মামলা করা হলো— এসব প্রশ্ন এখন আলোচনায়। এখন তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে এই দীর্ঘ ঘটনাপ্রবাহের প্রকৃত সত্য। তবে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘ সময় একজন কিশোরীর নিখোঁজ থাকা এবং পরে জীবিত উদ্ধার হওয়া মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
 

আরও পড়ুন

×