ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৭১ ভুলে গেলে আমরা দেশের শেকড়কে ভুলে যাবো: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

৭১ ভুলে গেলে আমরা দেশের শেকড়কে ভুলে যাবো: প্রতিমন্ত্রী পুতুল
×

ছবি: সংগৃহীত

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ১৬:১৬ | আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ | ১৬:৫৮

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, ৭১ কে ভুলে গেলে আমরা দেশের শেকড়কে ভুলে যাবো। ৭১ কে ভুলে গেলে আমরা দেশের শেকড়কে ভুলে যাবো। যে জাতি তার শেকড়কে ভুলে যায় সে জাতি কোন দিন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। 

মঙ্গলবার সকালে লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের শহীদ সাগর চত্বরে আয়োজিত গণহত্যা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী পুতুল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের চেতনাকে আমরা ধারন করতে ব্যর্থ হয়েছি। যে স্বপ্ন নিয়ে, প্রত্যাশা নিয়ে ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন, বীরাঙ্গনারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন আমরা এখনো সেই চেতনা বুকে ধারণ করতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করেছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি করতে। ১৯৭১ সালে যারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রত্যেকেরই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাওয়ার অধিকার আছে।

তিনি আরো বলেন, যারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের সম্মানিত করতে হলে তাদের পরিবারকেও আমাদের সম্মান করতে হবে। শুধু ৫ই মে না, আমরা তাদেরকে সারা বছর মনে করতে চাই। আমার আমাদের অবস্থান থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া, লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলহাস হোসেন সৌরভ, লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হামিদুর রহমান বাবু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৫ই মে পাকসেনা ও তাদের দোসর রাজাকাররা নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে ঢুকে জরুরি মিটিংয়ের কথা বলে মিলের বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রমিক কর্মচারীদের চিনিকলের উত্তরে ১নং ফটকে ডেকে নেয়। পরে তারা অস্ত্রের মুখে নিরস্ত্র শ্রমিক কর্মচারীদের চিনিকলের অভ্যন্তরে পুকুরপাড়ে নিয়ে মিলের তৎকালীন প্রশাসক জিএম লেফট্যানেন্ট আনোয়ারুল আজিমসহ মিলের অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্রাশ ফায়ার করে ও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।

স্বাধীনতার পর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ওই পুকুরের নামকরন করা হয় শহীদ সাগর। আর লেফট্যান্যান্ট আনোয়ারুল আজিমের নামে গোপালপুর রেলস্টেশনটির নামকরণ করা হয় আজিমনগর। স্বাধীনতার পর থেকে  প্রতি বছর এই দিনটিতে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের শহীদ সাগর চত্বরে ৫ মে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন

×