ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

কুবি উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের

কুবি উপাচার্যের পদত্যাগসহ  ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের
×

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন  সংগঠনটির নেতারা। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে সচেতন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসব দাবি তোলেন।

মানববন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ স্থবিরতার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একটি নতুন বাংলাদেশ ও উন্নত ক্যাম্পাসের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘জামায়াতীকরণ’ করছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পক্ষপাতমূলক নিয়োগ বেড়েছে।

ছাত্রদল নেতা মোতাসিম বিল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, টেন্ডার থেকে নিয়োগ– সব ক্ষেত্রেই অনিয়ম হচ্ছে এবং প্রশাসন দলীয়করণের প্রমাণ দিচ্ছে।
মানববন্ধন শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সেখানে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের একটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এমন অবস্থায় তিনি কীভাবে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি আমাদের প্রশ্ন। আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগগুলোর তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি।’

ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য, বর্তমান ভিসি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভিসি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। অবিলম্বে ভিসিকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব নিয়োগের তদন্ত প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ, উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব প্রকাশের দাবি জানায়। পাশাপাশি গত ১৮ মাসে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ, উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ অভিযুক্ত প্রশাসনের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণ, আবাসিক হল ও ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান উন্নয়ন এবং স্বল্প অপরাধে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার না করার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলীর ভাষ্য, ছাত্রদল যেসব দাবি তুলেছে তাঁর অধিকাংশই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বর্তমান প্রশাসনকে বিতর্কিত করতে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছেন তারা। শিক্ষক নিয়োগ ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়োগ সংক্রান্ত সব নথিপত্র আছে। তাছাড়া দরপত্রের ক্ষেত্রে লম্বা একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেখানে অনিয়মের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। আমি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি।’

আরও পড়ুন

×