ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা বিপর্যস্ত জনজীবন

বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা  বিপর্যস্ত জনজীবন
×

ভারী বৃষ্টিপাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর খেলার মাঠে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা সমকাল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৭:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চত্বরে রয়েছে বৃষ্টির পানি। শহরের প্রায় সব অলিগলিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে পৌর এলাকার জনজীবন। 

বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে শহরের অনন্তপুর, মোহনপুর, শায়েস্তানগর, নোয়াহাটি, গার্নিংপার্ক, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। এতে করে যান চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি  ঘটছে ছোট­-বড় দুর্ঘটনা।

জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাব, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়ছে। শুধু বাসাবাড়িই নয়, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্কুলের শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে থাকায় নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না। অভিভাবকরাও এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে শহরের ম্যাগপাই কেজি অ্যান্ড হাইস্কুলে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে পানি থইথই করছে। কাঠের দরজা ও টেবিল-বেঞ্চ পানিতে বিনষ্ট হচ্ছে। শিক্ষকরা বলছেন, রাতে বৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ রোধে কিছু করতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নির্বিচারে খাল ও জলাধার দখল এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবই এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। শুকনো মৌসুমে পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। আবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ড্রেন নির্মাণেও তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বর্ষা মৌসুম এলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তখন শুরু হয় পৌর কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাঁপ। ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের ভাষ্য, পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের হিস্যা পৌর বাসিন্দাদের কাছ থেকে কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নেয়; বিনিময়ে তারা কঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা পান না। 
মোহনপুর এলাকার বাসিন্দা ওয়াহিদ মিয়া বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে সমস্যাটি সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম এলেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। দ্রুত শহরের ড্রেনগুলো সংস্কার, খাল পুনর্খনন এবং দখলমুক্ত করার দাবি জানান তিনি। 
শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা নুরুল হক কবির বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হলেও ময়লা-আবর্জনায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়া ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কারে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই। কখনও কখনও নামমাত্র পরিষ্কার করা হয়; যা ভারী বৃষ্টির পানি অপসারণে যথেষ্ট নয়। 
হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, শহরের ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ড্রেন নতুন নির্মাণকাজও চলছে। বৃষ্টিতে যাতে করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় পৌর কর্তৃপক্ষ সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×