বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
এক পক্ষের মামলা ৭ গ্রামে পুলিশের রাতভর অভিযান
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৭:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এতে এক পক্ষের ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় গত বুধবার রাতে বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা বিশাল মিয়া বাদী হয়ে বিএনপি নেতা রিফাত মোল্লাকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করেন। বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে গত বুধবার বিকেলে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সংঘর্ষে আহত আব্দুল মালেক গাজী, শাহীন মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন ও মাহমুদ হাসানকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর গত বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রিফাত মোল্লার বাড়িতে। তারা গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তেঘরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমদি, নাজিরপুর, কলাবাগান, বটতলা, মোল্লাবাড়ি, রাজেন্দ্রপুর ও তেঘরিয়া গ্রামে রিফাত মোল্লার সমর্থকদের বাড়িতে অভিযান চালান। তারা কাউকে আটক করতে পারেননি। স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রাম সাতটির অনেক পুরুষ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
সংঘর্ষের পর তেঘরিয়া গিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিফাত মোল্লাকে গ্রেপ্তারে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মামলার বাদী বিশাল মিয়া বলেন, তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে রিফাত মোল্লার লোকজন হামলা ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণ করায় থানায় মামলা করেছি।
বিএনপি নেতা ও তেঘরিয়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রিফাত মোল্লা মোবাইল ফোনে বলেন, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লার লোকজন চারজনকে রক্তাক্ত জখম করেছে। অথচ উল্টো আমাকে প্রধান করে ৩৭ জনের নামে মামলা করা হলো।
ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লা বলেন, আমার কোনো লোকজন হামলা চালায়নি। পুলিশ হামলার বিষয়ে ভালো বলতে পারবে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরার জন্য চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- সংঘর্ষ
