গারো পাহাড় রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৮:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
দুই বছর ধরে ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ে চলছে নিধনযজ্ঞ। শাল, সেগুন গাছসহ উজাড় হচ্ছে টিলার পাথর ও বালু। এতে দিন দিন গারো পাহাড় হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য। প্রাণিকুল বিশেষ করে হাতির বাসস্থান ও খাবারের অভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা বন ছেড়ে চলে আসছে লোকালয়ে। স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসন চেষ্টা করেও পাহাড় ধ্বংস ঠেকাতে পারছে না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘সম্মিলিত সচেতন সমাজ’। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকূড়া ইউনিয়নের সীমান্ত সড়কের রাংটিয়া মোড়ে বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে এলাকার শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে পাহাড় রক্ষায় তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। সেখানে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিশেষ বার্তার মধ্যে ছিল– ‘পাহাড় কোনো পণ্য নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব, তাই একে রক্ষার দায়িত্ব সবার’, ‘গাছ আর পাহাড় প্রকৃতির দান, এদের রক্ষা করা আমাদের ইমান’, ‘পাহাড় কাটার কোনো ক্ষমা নাই, প্রকৃতি কোনো দিন ক্ষমা করে না’।
প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী রবিউল ইসলাম রুমান বলেন, ‘আমরা জানি কারা পাহাড় লুট করছে। কিন্তু বলে লাভ কী? প্রভাবশালী এসব ব্যক্তি প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখায়। তবে জীবন একটাই, পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জীবন থাকুক আর না থাকুক আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’
পরিবেশপ্রেমী কাঞ্চন মারাক ও রহমত আলীর ভাষ্য– চোখের সামনে সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড় ধ্বংস হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য হুমকিতে। কিন্তু কিছু বলতে পারছেন না। বড় বড় শাল গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। টিলা কেটে পাথর, বালু তোলা হচ্ছে। অভিযুক্তদের কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। তবে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে, জয় একদিন হবেই।
স্থানীয় ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর সদস্য জাহিদুল হক মনির বলেন, ‘দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গারো পাহাড় তার অস্তিত্ব হারাবে। বিলুপ্ত হবে জীববৈচিত্র্য।
সমাবেশে অংশ নেয় সেভ দ্য ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার, সবুজ আন্দোলন, বার্ড কনজারভেশন সোসাইটি, বিউটি অব ঝিনাইগাতী, হাতির খবর ও সচেতনতা, রক্ত সৈনিক সংস্থা, শ্রীবরদী বন্ধু ফাউন্ডেশন,
প্রশাখা, নালিতাবাড়ী থেকে যা কিছু দেখেছি, ঝিনাইগাতী থেকে যা কিছু দেখেছিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-আমিন জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সবাই এগিয়ে এলে তাদের কাজ করতে অনেক সুবিধা হয়। সচেতন হলে পাহাড় ও বনের সম্পদ রক্ষা পাবে। অপকর্ম যারা করছে তাদের সংখ্যা বেশি নয়। তাই সবাই সজাগ হলে গারো পাহাড় রক্ষা ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচবে।
- বিষয় :
- আন্দোলন
