ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

স্বামী-শ্বশুরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা

স্বামী-শ্বশুরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা
×

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৮:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা হয়েছে। গত বুধবার রাতে ফারিয়ার বাবা হানিফ কোতোয়ালি থানায় হত্যার অভিযোগ দেন। তবে পুলিশ অভিযোগটি আত্মহত্যার প্ররোচনার সংশ্লিষ্ট ধারায় রেকর্ড করেছে। এতে আসামি করা হয়েছে ফারিয়ার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়, শ্বশুর আবদুর রহিম, শাশুড়ি আফরোজা বেগম, ননদ রীমা আক্তার ও তাঁর স্বামী জাকারিয়াকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার। তিনি জানান, ফারিহার বাবার অভিযোগ আপাতত আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পেলে তখন বিধি অনুযায়ী মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত হবে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারিয়া ও হৃদয় কুমিল্লার সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার দেনমোহরে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁর স্বামী ও পরিবারের লোকজন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ফারিয়া তাঁর বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় পরিবারে কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
ফারিয়ার বাবা হানিফ সমকালকে জানান, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। আসামিরা তাঁকে হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশ ডাকে। থানায় লাশ নেওয়ার পর তাদের জানানো হয়, ফারিয়া আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা ফারিয়ার দুই পায়ের হাঁটুর নিচে ও দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। হত্যায় জড়িতদের শাস্তি চাই।’ এর আগে বুধবার রাত ১টার দিকে ফারিয়ার লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে ফারিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেয়। পরে তারা ফারিয়ার কবর জিয়ারত করেন। 

ফারিয়ার ছোট ভাই রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন খন্দকার ফাহিম বলেন, ‘কিছু হলেই আমার বোনের গায়ে হাত তুলতেন হৃদয়। ছবিতে খাটের ওপর যেভাবে তার দেহ দেখেছি, এভাবে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এমদাদুল হক ভূঁইয়া সোহাগ জানান, ফারিয়ার এমন মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মর্মাহত। আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামে বহুতল ভবন থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। ফারিয়া (২৩) কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ফারিয়ার স্বামীসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে। 

আরও পড়ুন

×