সালিশ থেকে সংঘর্ষে জড়াল স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষ
বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট
ছবি : সমকাল
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৩:৪৪
বিরোধ মেটাতে ডাকা সালিশ থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের লোকজন একে অন্যের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ দিন আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাইড দেওয়া নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খার বাগ্বিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনায় বিল্লাল হোসেন খা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
গতকাল সোমবার বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে বরুনা জামে মসজিদের সামনে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে আমিন হোসেনের পক্ষে তাঁর ভাই রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিল্লাল হোসেন খাও তাঁর সমর্থকদের নিয়ে সেখানে অংশ নেন।
বিচার চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হামলাকারীরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে থাকেন। সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫ জনকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো সময় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিল্লাল হোসেন খা ও তাঁর লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের লোকজনকে আহত করেছে।
অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ করে বিল্লাল হোসেন খা বলেন, সালিশ চলাকালে রফিকুল ইসলামের সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কোন পক্ষ গুলিবর্ষণ করেছে, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানান তিনি।
- বিষয় :
- সালিশ
- নারায়ণগঞ্জ
- রূপগঞ্জ
- স্বেচ্ছাসেবক দল
- সংঘর্ষ
