বনরক্ষী-বনদস্যু গোলাগুলি, সুন্দরবনে উদ্ধার ৪ জেলে
সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে জিম্মি চার জেলেকে বুধবার উদ্ধার করেন বনরক্ষীরা। ছবি: সমকাল
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ২০:৪১
পূর্ব সুন্দরবনে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলি হয়েছে। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শেলারচর টহল ফাঁড়ির সিঙেরটেক বনাঞ্চল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির পর দস্যুরা পালিয়ে গেলে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, চারটি ওয়াকিটকি সেট ও দস্যুদের ব্যবহৃত একটি ট্রলার জব্দ করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিমের বনরক্ষীরা যৌথভাবে টহলে ছিলেন। এ সময় সিঙেরটেক এলাকার নদীতে একটি সন্দেহজনক ট্রলার দেখতে পান। বনরক্ষীরা ট্রলারটি থামানোর সংকেত দিলে সেটি না থামিয়ে বনদস্যুরা বনরক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে বনরক্ষীরাও পাল্টা গুলি চালান। উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক মিনিট গোলাগুলির পর দস্যুরা ট্রলারটি সুন্দরবনের তীরে ভিড়িয়ে দ্রুত বনে পালিয়ে যায়।
বনরক্ষীরা ট্রলারটি তল্লাশি চালিয়ে একটি বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ, চারটি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করেন। ভেতরে শিকলবন্দি অবস্থা থেকে জিম্মি চার জেলেকে এ সময় উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন–হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায়। উদ্ধার জেলে ও জব্দ ট্রলারটি শেলারচর টহল ফাঁড়িতে নেওয়া হয়েছে।
দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় মামলা
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের কালিয়ারখাল এলাকা থেকে আটক হরিণ শিকারীকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তাদের কোপে দুই বনরক্ষী গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল জাবেরের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি দল মঙ্গলবার বিকেলে চরখালী বনাঞ্চলের শুয়োরগুদি এলাকায় নিয়মিত টহলে যান। এ সময় তারা কয়েকজন হরিণ শিকারীকে দেখতে পান। শিকারীরা ট্রলারে উঠে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বনরক্ষীরা তাদের ধাওয়া করে কালিয়ারখাল এলাকা থেকে চিহ্নিত হরিণ শিকারী কুদ্দুস রাজাকে (৩০) আটক করেন।
কুদ্দুস রাজাকে নিয়ে ফেরার পথে তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে বনরক্ষীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চরখালী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল জাবের ও বনবিভাগের নৌকাচালক অপূর্ব কুমার সাহাকে কুপিয়ে রাজাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাতেই আহত দুজনকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শরণখোলা থানায় মামলা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় চলছে। শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, বনবিভাগের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
