ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাই

জমির ক্ষতিপূরণ না দিয়েই সড়ক প্রশস্তকরণ, ক্ষোভ

জমির ক্ষতিপূরণ না দিয়েই  সড়ক প্রশস্তকরণ, ক্ষোভ
×

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

মিরসরাইয়ে জমির ক্ষতিপূরণ না দিয়ে একটি সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ভূমি মালিকরা। সম্প্রতি উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের আবুতোরাব-হাদিনগর-হাসিমনগর সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরুর পর থেকে এই ক্ষোভ দেখা দেয়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। 

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে মঘাদিয়া ইউনিয়নের সামনের থেকে ঠাকুরহাট হয়ে হাসিমনগরের স্টিল সেতু পর্যন্ত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ শুরু করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করে জে.বি.এল.এম.এ.জে.বি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম ডিভিশন উপজেলা অ্যান্ড ইউনিয়ন রোড প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালী প্রকল্পের অধীনে এ সড়কের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৬৩৯ টাকা। ১৮ ফুট মূল সড়কের সঙ্গে দুই পাশে ৩ ফুট করে ৬ ফুট শোল্ডারসহ (পাশ) সড়কটি ২৪ ফুটে উন্নীত করা হবে। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী বছরের ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। 

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সড়কের দুই পাশে থাকা কয়েকশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এক্সক্যাভেটর দিয়ে সড়কের পাশে থাকা ফসলি জমির মাটি কেটে কিছু অংশে মাটি ভরাট করা হয়েছে। ভরাট করা জায়গা ও মাটি কেটে গর্ত করা জায়গাগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন। ঠিকাদারের নিযুক্ত ভেকু (এক্সক্যাভেটর) চালকরা ইচ্ছেমতো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি খনন করেছেন। কেউ কেউ নিজের বাড়ির উঠান রক্ষা করতে বালু কিনে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রেখেছেন। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ক্ষতির বিষয়ে ঠিকাদার কিংবা প্রশাসনের কেউ ভূমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। 
স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইছাক বলেন, সড়কের পাশে তাঁর ৬ শতক জমি ছিল। সড়ক প্রশস্ত করতে ঠিকাদারের লোকজন তাঁর জমির প্রায় ৪ শতক জায়গা ভরাট করে নিয়েছে। বাকি জায়গা থেকে মাটি কেটে গর্ত করে ফেলেছে। 

নাজিম উদ্দিন নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর বসতভিটা ও গোয়ালঘরে পাশ ঘেঁষে সড়কের জন্য মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। ইচ্ছেমতো মাটি কেটে নেওয়ায় আসছে বর্ষায় তাঁর বসতভিটায় ভাঙন দেখা দিতে পারে। পেয়ারা বেগম জানান, সড়কের পাশে তাঁর তিন শতক জমি ছিল। জমিটুকু ছিল তাঁর শেষ সম্বল। সড়ক প্রশস্ত করতে তাঁর সবটুকু জমি মাটি ভরাট করে দখল করা হয়েছে। 
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম সুমন বলেন, ৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণে কমপক্ষে এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিবারগুলো জানতেই পারছে না তারা ক্ষতিপূরণ পাবে কিনা। ক্ষতিপূরণের আশ্বাস না পেয়ে স্থানীয় লোকজন মাটি ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ভুক্তভোগী জমির মালিক, প্রশাসন ও ঠিকাদারের ত্রিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা প্রয়োজন। 
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে.বি.এল.এম.এ.জে.ভির প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আওরঙ্গজেব বলেন, সড়কটির উন্নয়নের জন্য স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের সঙ্গে তারা আলোচনা করেছেন। শিগগিরই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী। 
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী দিদারুল আলম জানান, এলজিইডির নীতিমালা অনুযায়ী সড়কের জন্য কোনো জমি অধিগ্রহণ করা হয় না। বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদের জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কামনা করেন তিনি। 

আরও পড়ুন

×