ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রূপপুর প্রকল্পের তেজস্ক্রিয়তা নজরদারিতে ২৪ পর্যবেক্ষণকেন্দ্র

রূপপুর প্রকল্পের তেজস্ক্রিয়তা নজরদারিতে ২৪ পর্যবেক্ষণকেন্দ্র
×

ছবি: সমকাল

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ১৭:৪৪

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় তেজস্ক্রিয়তার সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব পর্যবেক্ষণে ২৪টি স্বয়ংক্রিয় জরুরি পরিবেশ পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার বাতাস, মাটি, পানি, ঘাস, দুধ ও শাকসবজির মান নিয়মিত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও নিয়মিত পরিমাপ করা হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে এই ২৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশের বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকার পরিবেশগত বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে প্রকল্পের নিরাপদ অঞ্চল গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকায়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সেখান থেকে সার্বক্ষণিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গত প্রায় এক দশক ধরে এলাকার বাতাস, মাটি, পানি, ঘাস, শাকসবজি ও দুধের পরিবেশগত তথ্য এই ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে পরিবেশে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বাড়ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে এগুলোর মাধ্যমে দ্রুত তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর সংগৃহীত তথ্য জনসাধারণের কাছেও প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রে কর্মরতদের সুরক্ষায় তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের পৃথক যন্ত্রও স্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×