নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে পৃথক বিস্ফোরণে ২ জনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ২২:৫৬
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার লাকি বাজারে ও সোনারগাঁয়ে পৃথক দুটি আগুনের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন বৃহস্পতিবার এবং অপরজন শুক্রবার মারা যান।
এর আগে গত মঙ্গলবার সদর উপজেলার ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার আগুনের ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক তিনটি আগুনের ঘটনায় মারা গেলেন সাতজন।
গত সোমবার বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হন আব্দুল কাদের (৫০)। শরীরের ৫৭ শতাংশ পুড়ে যাওয়া ওই ব্যক্তি রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ফতুল্লার শিবু মার্কেট সংলগ্ন কুতুবপুর লাকি বাজার এলাকার শওকত মিয়ার ভাড়াবাড়িতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই বাসার ভাড়াটিয়া আব্দুল কাদের ও তার তিন ছেলে মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬) দগ্ধ হন।
নিহত আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মাহিনুর বেগম জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও প্রচুর ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। তার স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে গত কয়েকদিনে তার জমানো ১৫ হাজার টাকা শেষ হয়ে গেছে। এখনো ছেলেরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। টাকার অভাবে তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছেন না।
নিহত আব্দুল কাদের পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। আব্দুল কাদেরের দুই ছেলে মেহেদী ও সাকিব হালিম-চটপটির দোকান চালাতেন। রাকিব একটি ডাইংয়ে কাজ করত। ঘটনার সময় কাদেরের স্ত্রী গৃহিণী মাহিনুর ছেলেদের হালিম তৈরি করার জন্য মাংস পরিষ্কার করতে ঘরের বাইরে ছিলেন। তাই তিনি এ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান।
এই ঘটনায় দগ্ধ কাদেরের তিন ছেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে রাকিবের শরীরের ২৫ শতাংশ ও শ্বাসনালি, সাকিবের ১৭ শতাংশ এবং মেহেদীর ১৮ শতাংশ ও তাদের সবার শ্বাসনালি পুড়ে গেছে।
শিবু মার্কেট ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা অপূর্ব জানান, ঘরের ভেতর জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে ভবনের ২টি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আগুন খুব বেশি ছড়াতে পারেনি। এর মধ্যেই ঘরে থাকা চারজন দগ্ধ হন।
অপরদিকে গত ১৩ মে (বুধবার) সোনারগাঁয়ের ‘জেরা মেঘনা পাওয়ার প্লান্ট’-এর ক্যান্টিনে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ১২ জনের মধ্যে শংকর সাহা নামের প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
- বিষয় :
- নারায়ণগঞ্জ
- অগ্নিকাণ্ড
- সোনারগাঁ
