ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ পদক্ষেপ জাবি প্রশাসনের
সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম। ছবি: সমকাল
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০২:২২ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ | ০২:২৭
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বহিরাগত কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারে ১৪টি পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, হটলাইন চালু, সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম।
প্রক্টর বলেন, গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী আবাসিক হলে ফেরার পথে ক্যাম্পাসে এক বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীর হামলার শিকার হন। এ ঘটনার পর বিভিন্ন সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ মে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, জরুরি অভিযোগ গ্রহণে হটলাইন চালু, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা এবং বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক, কর্মকর্তা ও দোকান কর্মচারীদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকান অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন, নতুন প্রহরী নিয়োগ এবং আরও ১০০ জন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রক্টর।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামত এবং অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আল বেরুনী হলের টিনশেড এক্সটেনশন ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হবে। একই সঙ্গে বুলিং, সাইবার বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধে স্থায়ী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময় বেঁধে (আল্টিমেটাম) দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবিগুলো হলো—অপরাধীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে; যদি এ দাবি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তাহলে ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় স্বীকারপূর্বক প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে; হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে; ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়ে তাদের কুইক রেসপন্স টিমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
- বিষয় :
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
