টিনের তাওয়া আর বৈঠায় জীবনযুদ্ধ
উল্লাপাড়ায় টিনের তাওয়ায় করতোয়া নদী পাড়ি দিচ্ছেন কৃষক মোখলেস -সমকাল
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০৮:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
করতোয়ার জলে ভাসে টিনের তাওয়া, তাতেই ভরসা স্বপ্ন আর বাঁচার লড়াই। নদীর ঢেউ যেন প্রশ্ন তোলে– কত দূর যাবে এই সংগ্রাম? তবু থামে না পথচলা, অভাবের বুক চিরে এগিয়ে চলাই যেন কৃষক মোখলেসুর রহমানের নিয়তি।
মোখলেসুর রহমান উল্লাপাড়ার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের পূর্ব সাতবাড়ীয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক। ভিটেমাটি ছাড়া তার নিজের কোনো জমি নেই। তবে করতোয়া নদীর ওপারে জেগে ওঠা ছোট্ট এক চরে দাদার রেখে যাওয়া দেড় বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন তিনি। সেই জমিই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার তাকে নদী পার হতে হয়। কিন্তু খেয়া নৌকার ভাড়া দিতে হয় প্রতিবার ৫ টাকা করে। দিনে ৩০ থেকে ৪০ টাকা শুধু পারাপারের খরচ–যা তাঁর মতো দরিদ্র কৃষকের পক্ষে বহন করা কঠিন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন এক ঝুঁকিপূর্ণ পথ। ধান সিদ্ধ করার টিনের তাওয়া–সেটিকেই বানিয়েছেন নিজের নৌকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাতে বৈঠা, পায়ের নিচে টিনের তাওয়া–এভাবেই নদীর স্রোত আর ঢেউ মোকাবিলা করে পার হচ্ছেন মোখলেসুর। বাতাস উঠলে নদীতে ঢেউ বাড়ে, তখন ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তবুও থামেন না তিনি। কারণ, এই ঝুঁকির মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর সংসারের টিকে থাকার গল্প।
মোখলেসুর জানান, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চরটি পানির নিচে থাকে। বাকি সময় সেখানে বোরো ধান, শাকসবজি চাষ করে সংসার চালান। মাছ ধরেও কিছু আয় করেন। কিন্তু তাতেও পুরো পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর পাঁচজনের সংসার। বড় ছেলে মিজান ও মেয়ে সুরাইয়া স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। ছোট ছেলে মোহনের বয়স মাত্র চার বছর। সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চান তিনি, যেন ভবিষ্যতে তাদের জীবন তাঁর মতো কষ্টের না হয়।
মোখলেসুর বলেন, ‘গায়ে গতরে খেটে সংসার চালাই। কারও কাছে হাত পাতি না। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বাঁচতে চাই।’
- বিষয় :
- জীবন
