কক্সবাজারে রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে অসুস্থ ৩০ পর্যটক
কক্সবাজার সদর হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ১৯:৪৩
কক্সবাজার শহরের একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে অন্তত ৩০ পর্যটক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হলে শনিবার বিকেলে যৌথ অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে রেস্টুরেন্টটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শুভ্র দাশ বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে রেস্টুরেন্টটিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। খাবার তৈরির স্থান অপরিচ্ছন্ন এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করার প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’
এর আগে শুক্রবার রাতে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে শিক্ষা সফরে আসা ৩০ জন পর্যটক ওই রেস্টুরেন্টের বারবিকিউসহ বিভিন্ন খাবার খান। খাবার গ্রহণের কিছু সময় পর তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাক্তার তানবী জান্নাত জানান, ‘রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে একে একে আক্রান্ত পর্যটকরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। সব মিলিয়ে একটি গ্রুপের ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ফুড পয়েজনিংয়ের কারণে এমনটা হয়েছে। কয়েকঘন্টার পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা শেষে শনিবার দুপুরের দিকে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পর্যটকদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
চিকিৎসা নেওয়া পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন— গোলাম মোর্শেদ, মাহবুব আলম, আব্দুল মোমিন, মৌ, রুমা, আসমানী, মরিয়ম, মোমেন, মশিউর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, আনোয়ার, সাবাব উল্লাহ, জাহির, আমিনুল ইসলাম, মাসুম উল্লাহ, আজহারুল আলী, কামরুজ্জামান, আবু বকর, আব্দুল মঈন, গীতা বালা ধর ও আয়ান।
রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, ‘আমাদের কলেজ থেকে ১৩০ জনের একটি দল শিক্ষা সফরে কক্সবাজারে আসি। রাতে আমরা ৩০ জন বারবিকিউ খাই, কিছু সময় পর থেকেই সবাই কম-বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা নিই।’
পর্যটন শহর কক্সবাজারের রেস্তোরাঁগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবী করেন ভুক্তভোগী পর্যটক মশিউর রহমান।
রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ‘তাদের বারবিকিউ নয়, বরং সৈকত এলাকায় অন্য খাবার খেয়ে পর্যটকরা অসুস্থ হয়েছেন।’
অন্যদিকে একইদিনে অন্য একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
