ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
চালুর ৮ মাসেই লোকসানের মুখে বৈদ্যুতিক শাটল
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৮:০৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
শিক্ষার্থীদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আট মাস আগে চালু হয়েছিল ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) বা বৈদ্যুতিক শাটল প্রকল্প। চারটি যানবাহন দিয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি কয়েক মাসের মধ্যেই লোকসানে পড়েছে। এ জন্য যাত্রী সংকট, পরিচালনাগত জটিলতা এবং আয় কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শিক্ষার্থীরা উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের সহজ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভি প্রকল্প চালু হয়। ১৪ আসনের চারটি বৈদ্যুতিক শাটল কিনতে কর্তৃপক্ষের খরচ হয় ৪৪ লাখ টাকা। সূত্র জানায়, এসব যানবাহন কিস্তিতে কেনার সুযোগ ছিল। কিন্তু এতে বাড়তি ২০ লাখ টাকা গুনতে হয় বলে নিজস্ব তহবিল থেকেই নগদে কেনা হয় চারটি শাটল।
চালু হওয়ার পর প্রথম দুয়েকমাস নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করে। এর মধ্যে একটি শাটলের রুট ছিল- প্রধান ফটক, ইবনে সিনা, লাইব্রেরি, মেডিকেল, ঝাল চত্বর ঘুরে ফটক; অপরটির রুট ছিল- প্রধান ফটক, রবীন্দ্র-নজরুল ভবন, ছাত্রী হল, শাহ আজিজুর রহমান হল, জিয়া মোড়, লালন শাহ হল ঘুরে প্রধান ফটক। জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয় মাত্র পাঁচ টাকা। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলাচল করে এই শাটল।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এই সেবাকে ঘিরে শুরুতে তাদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও সময়ের সঙ্গে এতে ভাটা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা এখন নিয়মিত ইভি ব্যবহার করেন না। দ্রুত যাতায়াতের জন্য তারা ভ্যানকেই বেশি কার্যকর মনে করেন তারা। এখন বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথিরাই বেশি ব্যবহার করছেন শাটল।
ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, ইভি আরামদায়ক হলেও দ্রুত চলাচলের জন্য সবসময় কার্যকর নয়। নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করায় ইভিতে করে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগে। তা ছাড়া সবসময় এটি পাওয়া যায় না। তাই জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে তাদের কাছে ভ্যানই বেশি সুবিধাজনক মনে হয়।
পরিবহন প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির সুদ ও পরিচালন খরচ মেটাতে প্রতি মাসে অন্তত ৬০ হাজার টাকা আয় প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। প্রথম দিন চারটি গাড়ি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ১১০০-১২০০ টাকা। ধীরে ধীরে আয় বাড়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে আয় কমতে থাকে। প্রথমদিকে চালকদের বেতনভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার চিন্তা থাকলেও ইভির আয় থেকে সুদ পরিশোধের পাশাপাশি চালকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে চালকদের সাপ্তাহিক চুক্তিভিত্তিক পদ্ধতি চালু করা হয়। প্রতিটি গাড়ির জন্য সপ্তাহে চার হাজার টাকা জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয় চালকদের। কিন্তু তারা এই টাকাও পুরোপুরি দিতে পারছেন না। গত সপ্তাহে কোনো চালক ৩২০০ টাকা, কেউ ৩৭০০ টাকা, আবার কেউ ৩৮০০ টাকা জমা দিয়েছেন। প্রতিটি ইভিতে একবার চার্জ দিতে ১৫০ টাকা খরচ হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন চারটি গাড়ি চালাতে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ টাকা, যা মাস শেষে প্রায় ১৮ হাজার টাকায় পৌঁছায়। ফলে প্রকল্পটির পেছনে প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকার লোকসান হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. শেখ আব্দুর রউফ বলেন, প্রকল্পটি সচল রাখতে তারা নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। টিকিট ব্যবস্থা, চালকদের চুক্তিভিত্তিক পরিচালনা, সচেতনতামূলক স্টিকার, ভ্যান নিবন্ধনের প্রস্তাব- সবই বিবেচনায় আনা হয়েছে। একটি ইভি শিক্ষকদের পরিবহন, একটি শিক্ষার্থীদের সার্ভিসিং কার ও আরেকটি দিয়ে কর্মকর্তা ও অতিথিরা ব্যবহার করতে পারেন।
- বিষয় :
- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
