ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দুই দস্যু আটক, জিম্মি চার জেলে উদ্ধার

দুই দস্যু আটক, জিম্মি চার জেলে উদ্ধার
×

সুন্দরবনের ঢাংমারী খালসংলগ্ন এলাকা থেকে রোববার ভোরে আটক বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য। ছবি: সমকাল

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ১৬:১৫

সুন্দরবনের ঢাংমারী খালসংলগ্ন এলাকা থেকে আলোচিত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। রোববার ভোরে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এদের একজন বাহিনীটির সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

রোববার সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন। তিনি বলেন, সুন্দরবনের গহীনে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের বিশেষ অভিযান চলছে। ষষ্ঠ দফায় পরিচালিত অভিযানে রোববার ভোরে ঢাংমারী খালসংলগ্ন এলাকা থেকে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করা হয়। এরা হলেন– বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা মো. রবিউল শেখ (৩০) ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। 

লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক ও ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন– খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রামের হিরু শেখ (২৮), ছাদিক শেখ (৩৮), হেলাল শেখ (৫৮) ও খানজাহান শেখ (৫৫)।

কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববারের অভিযানে আটক রাজন শরীফ দস্যু বাহিনী করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রকাশ বোস বলেন, অস্ত্রসহ আটক দুই বনদস্যুকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে। সোমবার এতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকেই খুলনা আদালতে পাঠাবেন। 

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন শ্যালা নদীর মরা চানমিয়াখালী খাল-সংলগ্ন এলাকায় করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ তিনজনকে আটক করা হয়। এরা হলেন– মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. রমজান শরীফ (১৯) ও মো. এনায়েত (২৫)। তাদের কাছ থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশি পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, দুটি ওয়াকিটকিসহ নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর হয়ে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন।

শরণখোলা থানার ওসি শামিমুল হকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার দুপুরের পর অস্ত্রসহ আটক দস্যুদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। গত শনিবার তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

×