মব করে রেজিস্ট্রারসহ দুজনের স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৮:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালককে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নাজমুল হুদা ও সমাজ কর্ম বিভাগের প্রভাষক হোসাইন মাহমুদ আপেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় রেজিস্ট্রারের কক্ষে ঢুকে পড়ে। পরে ওই কক্ষের ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর আদায় করার পর তাঁকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁকে নিচে নামিয়ে আনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পিছু হটেন অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। এর আগে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আসলামকে তাঁর কক্ষে ঢুকে অপমান-অপদস্থ করে তাঁকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ১০-১২ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী তাঁর কক্ষে ঢুকে তিন ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ রেখে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন। স্বাক্ষর করতে না চাইলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তাঁর ভাষ্য, আগের চাকরি সময়কাল গণনার (সার্ভিস কাউন্ট) মতো অবৈধ সুবিধা না দেওয়ার ক্ষোভ থেকেই ওই শিক্ষক-কর্মচারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন।
অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আসলামের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষক-কর্মচারীরা দলবলে তাঁর কক্ষে ঢুকে অপমান-অপদস্থ করেন। তখনই পদত্যাগ করতে হবে বলে তারা মারমুখী আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে মান-সম্মানের ভয়ে তাদের লিখে আনা পদত্যাগপত্রে সই করতে বাধ্য হন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ, নিজেদের অনিয়ম ও অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
দলবদ্ধ হয়ে মব তৈরি করেছেন। মূলত নতুন উপাচার্যের কাছে নিজেদের প্রভাব প্রমাণ করা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা থেকেই ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন তারা।
অভিযোগের ব্যাপারে ড. সৈয়দ নাজমুল হুদা বলেন, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপাচার্য বরাবর তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সেটি গ্রহণ করা না করা উপাচার্যের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে ঘটনার দিন তারা যারা রেজিস্ট্রারের কক্ষে গিয়েছিলেন, তারা সবাই ভুক্তভোগী এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বঞ্চিত। এই বিষয়টি নিয়েই কথা বলতে তার কক্ষে গিয়েছিলেন। তার মাধ্যমে নতুন উপাচার্যের কাছে বিষয়টি উত্থাপিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়েই তিনি অপপ্রচার চালাচ্ছেন। জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া ও মবের তৈরির অভিযোগ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
তবে প্রভাষক হোসাইন মাহমুদ আপেলের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিসিভ করেননি।
সার্বিক বিষয়ে জাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আমির হোসেন ভূঁইয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জরুরি সভায় ছিলেন। জানতে পেরে সেখানে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য তাৎক্ষণিক কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্যকে পাঠান। এক পর্যায়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার্থে দুই পক্ষকেই শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শৃঙ্খলাবিধি আছে।
কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে যথাযথ নিয়মে উপাচার্য বা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিতভাবে জানাতে হবে। মব সৃষ্টি করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা হেনস্তা করার কোনো সুযোগ নেই। মব তৈরি করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আসলামের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। পদত্যাগপত্র বা বিশৃঙ্খল কোনো ঘটনার বিষয়ে উপাচার্যের একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হবে। তবে রেজিস্ট্রার এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক দুজনই যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত, সেজন্য তাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
- বিষয় :
- মব
