বয়স বাড়াতে ডেন্টাল কেয়ারে ছাগল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৯:১৫ | আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ | ১০:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
দাঁতের সমস্যা হলে ডেন্টাল কেয়ার বা দন্ত চিকিৎসালয়ের দ্বারস্থ হয় মানুষ। তবে ছাগলের কী এমন হলো, তাকে নেওয়া হলো সেই ডেন্টাল কেয়ারে! মূক প্রাণীটি কীভাবে জানাল তার দাঁতে সমস্যা? সেই ছাগলকে মানুষের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে দাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে পুরো এলাকায় তোলপাড়।
এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে পৌরসভায় বিক্রির উদ্দেশ্যে ডেন্টাল কেয়ারে নিয়ে একটি ছাগলের দাঁত তোলার ঘটনা ঘটেছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌরসভার মহিলা কলেজ গেট সংলগ্ন আলভি ডেন্টাল কেয়ারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ছাগলের দাঁত তোলার বিষয়টি টের পেয়ে পৌরসভার জামে মসজিদ রোড এলাকা থেকে লিটন নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীকে আটকে রাখা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা ছাগলের দাঁত তোলার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ত্রিশাল পৌর এলাকার ওই দুই ব্যক্তির দাবি, ছাগলটির একটি দাঁত নড়বড়ে ছিল। তাই সেটি তুলে ফেলা হয়েছে। এর পর খামারি বা ক্রেতাদের কাছে ছাগলটি কোরবানির পশু হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।
ছাগলের চিকিৎসার জন্য পশু চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে মানুষের ডেন্টাল কেয়ারে কেন যাওয়া হলো– এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ‘হুনছি এইহানে দাঁত তুলে, তাই আইছিলাম।’
এমন প্রতারণার চেষ্টায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, কম বয়সী বা অপরিপক্ব ছাগলের দাঁত তুলে সেটির বয়স গোপন করার চেষ্টা ধর্মীয় বিধানের পরিপন্থি এবং ক্রেতাদের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। কোরবানি করার জন্য পশুর নির্দিষ্ট বয়সসীমা পার হওয়া জরুরি। যে কোনো বয়সের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় না। কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হয়।
এলাকাবাসী বলেন, অবলা প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম দিয়ে ছাগলের দাঁত তোলায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কাঁচা দাঁত তোলা প্রাণীর প্রতি চরম অবিচার। যে সরঞ্জাম দিয়ে পশুর দাঁত তোলা হয়েছে, তা দিয়েই আবার মানুষের চিকিৎসা হবে– এটা কেমন কথা?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলভি ডেন্টাল কেয়ারের মালিক দন্ত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন মানিক বলেন, ঘটনার সময় আমি প্রতিষ্ঠানে ছিলাম না। আমার দোকানের এক কর্মচারী না বুঝেই ছাগলটির দাঁত তুলেছে।
দাঁত তোলার কথা স্বীকার করে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী রাকিব বলেন, আমার এক পরিচিত লোক ছাগলটি নিয়ে এসেছিলেন। চেনার কারণে দাঁত তুলে দিয়েছি। তবে এর জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।
ত্রিশাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজনীন সুলতানা বলেন, দাঁত তোলা ছাগলটির বয়স এক বছরের কম। এই বয়সী ছাগল কোরবানি দেওয়া যায় না। প্রাণীর প্রতি এমন আচরণ ‘প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ছাগল
- ময়মনসিংহ
- দাঁতের যত্ন
