ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসক-মালিক পলাতক

কুষ্টিয়ায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসক-মালিক পলাতক
×

ছবি: সমকাল

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১৪:০০

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ডাংমড়কা এলাকায় আল মদিনা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। 

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. বিদ্যুৎ হোসেন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন- চিকিৎসক টি এ কামাল, ক্লিনিকের মালিক জনি ও আরিফুল ইসলাম গেদু।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার মধুগাড়ী (বাজারপাড়া) গ্রামের বিদ্যুৎ হোসেনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের প্রসব বেদনা উঠলে সোমবার দুপুরে তাকে ডাংমাড়কা বাজারস্থ আল মদিনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসক টি এ কামাল ফাতেমাকে অপারেশন রুমে নিয়ে যান। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক ও ক্লিনিকের মালিক পক্ষ ফাতেমার সদ্যজাত ছেলেসন্তানকে পরিবারের এক সদস্যের কোলে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ক্লিনিক থেকে বের হয়ে যায়। এরপর ফাতেমার স্বামী ও স্বজনরা অপারেশন রুমে ঢুকলে সেখানে ফাতেমাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের সময় চরম অবহেলা করা হয়েছে। 

নিহত ফাতেমার স্বামী বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে, ভালো চিকিৎসার আশায় আল মদিনা ক্লিনিকে নিয়ে এসেছিলাম। সন্ধ্যার সময় টি এ কামাল নামের ওই ডাক্তার আর ক্লিনিকের মালিক জনি আমার স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তারা আমার নবজাতক ছেলেকে আমাদের কোলে দিয়ে বলেন- বাচ্চাকে ধরেন, আমরা একটু আসছি।’

তিনি বলেন, ‘এরপর দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আমরা জোর করে অপারেশন রুমে ঢুকে দেখি আমার স্ত্রী আর বেঁচে নেই। ওরা তাড়াহুড়ো করে পালানোর জন্য আমার স্ত্রীর পেটের কাটা অংশটুকু সেলাই করার প্রয়োজনও মনে করেননি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে পালিয়েছে। আমি আমার স্ত্রীর এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে, ক্লিনিকের মালিক আরিফুল ইসলাম গেদু বলেন, রোগীর আগে থেকে শারীরিক সমস্যা ছিল। অপারেশনের সময় ফাতেমা নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মিটমাটের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, দু-একদিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

দৌলতপুর থানার প্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন,  ‘এ ঘটনার খবর শুনে ওই রাতেই গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। নিহতের স্বামীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। চিকিৎসায় অবহেলা বা কোনো ধরনের জালিয়াতি হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন

×