ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাজীপুর

একশ টাকার ভাড়া ১০০০, বাস সংকটে ঝুঁকি নিয়ে পিকআপ-ট্রাকে ঈদযাত্রা

একশ টাকার ভাড়া ১০০০, বাস সংকটে ঝুঁকি নিয়ে পিকআপ-ট্রাকে ঈদযাত্রা
×

জৈনাবাজার এলাকা থেকে তোলা

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ১২:১৫ | আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ | ১২:৪৯

ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের ভোগান্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে রাত ও সকালের টানা বৃষ্টি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকায় যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। টঙ্গী ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানি ভোগাচ্ছে যাত্রী-সাধারণ মানুষদের।

এই ভোগান্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি ভাড়া। এক লাফে ভাড়া ৯-১০ গুন বাড়ার অভিযোগ ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের। ১০০ টাকার ভাড়া এক হাজার, ২০০ টাকার ভাড়া ১৮০০ পর্যন্ত চাওয়ার অভিযোগ তুললেন যাত্রীরা। শুধু তাই নয়, গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে রওনা দিচ্ছেন অনেকে।

এসবের পরও এই মহাসড়কে কোথাও গাড়ি আটকে থাকতে দেখা যায়নি। যান আছে প্রচুর, তবে জট নেই। থেমে থেমে গাড়ি চলছেই। 

জৈনাবাজার এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন আব্দুল কাদির। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে জামালপুরের সরিষাবাড়ি যাচ্ছেন তিনি। সঙ্গে স্ত্রী ও ২ ছেলে। বাসে সিট না পেয়ে ট্রাকে বাড়ি যাচ্ছেন তারা। কাদির বলেন, গত ঈদে বাড়ি যাইনি। মা-বাবার জন্য মন কাঁদছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যেতে হচ্ছে। বাস ভাড়ার চেয়ে ট্রাক ভাড়াও কম।

বাড়তি বাস ভাড়ার বিষয়ে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার আল আমীন জানান, তিনি ময়মনসিংহ যাবেন। চান্দনা থেকে ময়মনসিংহের ভাড়া আছে ১০০ টাকা। সেখানে চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা।

রাহেলা খাতুন নামে পোশাক কারখানার শ্রমিক যাবেন জামালপুর। তিনি বাড়তি ভাড়া নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, ভাড়া ২০০ টাকা হলেও চাওয়া হচ্ছে ১৮০০ টাকা।  

আজ বুধবার সকাল থেকেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে বের হয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। এতো ভোগান্তির পরও স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন তারা।  

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন সমকালকে বলেন, যানজট কমাতে এবার ঈদে ৩ ধাপে ছুটি দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ২৮০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার ৩ হাজার ২২০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের সাড়ে ৩ হাজার কারখানায় কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ কর্মজীবী মানুষ এবার ঈদের আগে গাজীপুর ছাড়ছেন বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

বিভিন্ন স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, যানবাহনের জন্য তাদের অপেক্ষা। দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রীদের ডাকাডাকি করছে। কিন্তু ভাড়া বেশি চাওয়ায় প্রতিবাদ করে স্ট্যান্ডেই দাঁড়িয়ে আবার অন্য গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে ভাড়া বেশি চাইলেও বেশির ভাগ যাত্রী প্রতিবাদ না করে উঠে পড়েছেন গাড়িতে। মাওনা, জৈনা, নয়নপুর ,ভবানীপুর ও গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় বেলা সাড় ১১ টা পর্যন্ত গাড়ির প্রচুর চাপ দেখা গেছে। 

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, দুপুর গড়ানোর আগেই আশা করছি চাপ কমে যাবে। ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। 

আরও পড়ুন

×