‘পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা’—অডিও ভাইরাল, ওসি প্রত্যাহার
প্রতীকী ছবি
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ | ১৬:৪০ | আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ | ১৬:৪১
নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসেমকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। ‘পুলিশের চাকরিকে ব্যবসার’ সঙ্গে তুলনা সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আজ রোববার তাকে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওসি মো. আবুল হাসেমকে জেলা পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাইরাল হওয়া অডিওটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে আর্থিক লেনদেন, অধস্তন সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ওসির অনুমতি ছাড়া কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করার বিষয়ে বক্তব্য রয়েছে। এছাড়াও ওই অডিওতে বলতে শোনা যায়, কারও প্রাপ্য বা ‘হক’ থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস (এক ধরনের ব্যবসা)। আমরা কেউ কাউকে ঠকাবো না। সবাই মিলেমিশে থাকবো। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’
ওই রেকর্ডে ওসি আরও বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা এটা ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাবো না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল (সা.) তারে সাফায়েত করবেন না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘বর্তমানে গুপ্ত-গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত-গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্তু আমরা বুঝতেছি। এই যে সেইদিন মামলাটা হইলো না, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানান কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে মিশে চলি। বেশি চালাকির দরকার নেই। যে কোনো কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলবো না, কাউরে ঠকাবোও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায় জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানলো না! আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।’
তবে ভাইরাল হওয়া অডিওটির সত্যতা এবং নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মো. আবুল হাসেম। তিনি বলেন, ‘এই অডিও বা কথোপকথনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এমন কোনো কথা আমি বলিনি। কারা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি তৈরি করেছে, সেটিও আমার জানা নেই। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে।’
কলমাকান্দা থানাকে ঘিরে এর আগেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। গত ৫ মে চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী ছাড়িয়ে নিতে ঘুষের দর-কষাকষির একটি ‘কথিত’ কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়। সেই ঘটনার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।
- বিষয় :
- নেত্রকোনা
- ভাইরাস
- ওসি প্রত্যাহার
