ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, অধিকাংশ হোটেলে কক্ষ খালি নেই 

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, অধিকাংশ হোটেলে কক্ষ খালি নেই 
×

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ভিড়। ছবি: সমকাল/ইব্রাহিম খলিল মামুন

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ | ১৮:০৪

ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার থেকে পর্যটক আগমন কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

হোটেলমালিকদের সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও রিসোর্টের প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। অধিকাংশ হোটেলে আর কোনো কক্ষ খালি নেই। 

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর গত চার দিনে অন্তত পাঁচ লাখ পর্যটক বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় করেছেন। পর্যটকদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘ঈদের পর গত চার দিনে অন্তত পাঁচ লাখ পর্যটক এসেছেন। আগামী ৬ জুন পর্যন্ত পর্যটকের এ চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

হোটেলমালিকদের সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও রিসোর্টের প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। অধিকাংশ হোটেলে আর কক্ষ খালি নেই।

বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপদ সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করতে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। তাঁরা সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদ জোনে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।

রোববার দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী, সিগাল ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, হাজারো পর্যটক প্রচণ্ড রোদ আর তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে সমুদ্রস্নানে ব্যস্ত। কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতেছেন, কেউ জেট স্কিতে চড়ে গভীর সমুদ্র ঘুরে আসছেন। অনেকে বালুচরে বসে সমুদ্র উপভোগ করছেন। বিচ বাইক, ঘোড়ায় চড়া ও ছবি তোলায়ও ব্যস্ত দেখা গেছে অনেককে।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা ফজলে ওমর বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার জন্য কক্সবাজারই আমার প্রথম পছন্দ। নীল সমুদ্রের বিশালতা আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যেতে সবারই ভালো লাগে।’

ঢাকার মতিঝিল থেকে আসা হাসনা হুরাইন বলেন, ‘সৈকতে অনেক মানুষের উপস্থিতি উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। ঘোড়ার পিঠে চড়ার অভিজ্ঞতাও নিয়েছি। যদিও কিছুটা ভয় লাগছিল, তবুও অভিজ্ঞতাটি ছিল বেশ রোমাঞ্চকর ও উপভোগ্য।’

ফজলুল করিম নামের আরেক পর্যটক বলেন, ‘ঈদের ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে এসেছি। স্ত্রী ও ছোট সন্তানদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করছি।’ 

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে ছুটির তৃতীয় দিন থেকেই বদলে যায় চিত্র। 

ফটোগ্রাফার আব্দুল গফুর বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে কয়েক দিন পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। তবে এখন পর্যটকের ভিড় অনেক বেড়েছে।’ 

জেট স্কি চালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘পর্যটকদের ভিড় আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে ভালো ব্যবসা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম থাকায় আমরা ব্যবসায়ীরা কিছুটা লোকসানের মুখে পড়েছিলাম। তবে বর্তমানে এই পর্যটক সমাগম সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিতে সহায়তা করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’ 

তবে পর্যটকের এই বিপুল সমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে লাইফগার্ড কর্মীদের। তাঁরা পর্যটকদের নিরাপদ জোনে গোসলের আহ্বান জানিয়ে নিয়মিত সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।

সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের অধিকাংশই সমুদ্রে নেমেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পর্যটক নিখোঁজ বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ঢেউয়ের তীব্রতায় ভেসে যাওয়ার সময় কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

সাইফুল্লাহ বলেন, ‘কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সৈকতে সি-সেফের ২৬ জন লাইফগার্ড এবং জেলা প্রশাসনের ২৫ জন বিচকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। জোয়ার-ভাটা, রিপ কারেন্ট ও উত্তাল ঢেউ সম্পর্কে পর্যটকদের সতর্ক করতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে কক্সবাজার সৈকতের দক্ষিণে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত অরক্ষিত সৈকত এলাকায় কোনো স্থায়ী উদ্ধারব্যবস্থা নেই। ফলে নির্ধারিত নিরাপদ এলাকার বাইরে গোসলে নামলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।’

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুস শুক্কুর বলেন, ‘পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় অর্থনীতি আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে।’ তিনি জানান, এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটন খাতকেন্দ্রিক ব্যবসার পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কক্ষভাড়া ও খাবারের মূল্য আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছেন। কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

আরও পড়ুন

×