ছুটি শেষেও মুখরিত শিমুলিয়া ঘাট ও পদ্মা সেতু এলাকা
পদ্মা নদী এবং পদ্মা সেতু দেখতে এখনও ভিড় করছেন অনেক পর্যটক। গতকাল তোলা সমকাল
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হলেও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট ও পদ্মা সেতু এলাকায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ছুটির দিনগুলোর মতো এখনও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো ভ্রমণপিপাসু পদ্মা নদীর মনোরম সৌন্দর্য, শিমুলিয়া ঘাট এবং স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। পর্যটকদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে পুরো এলাকায়, বেড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও।
সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিমুলিয়া ঘাট ও পদ্মা সেতু-সংলগ্ন এলাকায় দর্শনার্থীরা বিচরণ করছেন। অনেকে পরিবার-নিয়ে ট্রলার ও স্পিডবোটে পদ্মা নদীতে ভ্রমণ করছেন। শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলনার দোকান এবং খাবারের স্টলগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক গিয়াসউদ্দিন খান বলেন, শিমুলিয়া ঘাটে এসে খুব ভালো লাগছে। পরিবার নিয়ে ট্রলারে করে ঘুরে পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছি। পাশাপাশি পদ্মার বিখ্যাত ইলিশের স্বাদও নিয়েছি। সব মিলিয়ে সময়টা দারুণ কেটেছে।
ঈদের লম্বা ছুটিতে পদ্মা সেতু এলাকা পরিণত হয়েছিল আকর্ষণীয় ভ্রমণকেন্দ্রে। গোধূলির আলোয় পদ্মা নদী ও সেতুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
দর্শনার্থীরা জানান, খুব কাছ থেকে পদ্মা সেতু, নদী এবং সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের দৃশ্য দেখতে পেরে তারা মুগ্ধ। অনেকেই স্থানটিকে দেশের অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় এলাকা হিসেবে অভিহিত করেছেন। পর্যটকদের ভিড়ে খুশি স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরাও। অটোরিকশাচালক বাচ্চু মিয়া বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটক বাড়ায় আমাদের আয়ও বেড়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসায় সারাদিন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আবদুস সামাদ বলেন, পর্যটক বেশি হওয়ায় আমাদের বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।
তবে কিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। তাদের অভিযোগ, এলাকায় পর্যাপ্ত ওয়াশরুমের ব্যবস্থা নেই। মানসম্মত খাবারের নির্ভরযোগ্য স্থানও অপ্রতুল। পর্যটকদের জন্য ছোট আকারের ফুড কর্নার ও বিশ্রামাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক পর্যটক।
নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা চন্দন মাহমুদ বলেন, দিনে পরিবেশ ভালো থাকলেও রাত হলে কিছু বখাটের আনাগোনা বেড়ে যায়। মাঝেমধ্যে নারীদের বিরক্ত করার ঘটনাও ঘটে।
- বিষয় :
- ঈদ উৎসব
