চার হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচানো গেল না হাম আক্রান্ত শিশুকে
আব্দুল আহাদ
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লার চারটি হাসপাতাল ঘুরেও হাম আক্রান্ত শিশু আব্দুল আহাদকে বাঁচানো যায়নি। আহাদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ফেলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ফেলনা গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক বশির আহম্মদ ও আছমা আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে।
গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আছমা ও বশিরের বিয়ের প্রায় ১২ বছর পর জন্ম নেওয়া আহাদকে হারিয়ে পরিবারে এখন শোকের ছায়া। গতকাল বুধবার গ্রামের বাড়িতে তার লাশ দাফন করা হয়।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে বশির ও আছমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের মর্জিনা আক্তার বর্ষা (১৬) নামে এক মেয়ে আছে। দীর্ঘদিন দুবাইয়ে প্রবাস জীবন শেষ করে ২০১৭ সালে দেশে আসেন বশির। ২০১৯ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনে একমাত্র ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় আব্দুল আহাদ। গত সোমবার সকালে আব্দুল আহাদের শরীরে হালকা জ্বর দেখা দেয়, সঙ্গে বমি। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যার পর তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতভর হাসপাতালের শয্যা না পেয়ে বারান্দায় ঠাঁই হয়। পরদিন মঙ্গলবার চিকিৎসক এসে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাকে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা করাতে অপারগতা প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। সেখানে থেকে নেওয়া হয় শহরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেও ডাক্তাররা কোনো ভরসা না দেওয়ায় মঙ্গলবার রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় আহাদের বাবা বশির আহমেদ জানান, ছেলেকে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। একে একে চৌদ্দগ্রাম ও কুমিল্লার চারটি হাসপাতালে ঘুরেও বাঁচাতে পারলেন না বলে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চৌদ্দগ্রাম ও কুমিল্লার হাসপাতালগুলোতে ছেলের ভালো চিকিৎসাসেবা না দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় কাঁচপুর পৌঁছালে আহাদ মারা যায়। তবুও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গিয়ে একটি ওষুধের দোকান থেকে একজন ডাক্তার ডেকে পরীক্ষা করালে দেখেন আহাদ আর বেঁচে নেই।
শিশুটির মা আছমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি এখন কী নিয়া বাঁইচা থাকমু? কত আদরের ছিল আহাদ। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছিলাম। এই দেশে হামের চিকিৎসা নাই কেন? নিষ্ঠুর হাম ক্যামনে আমরা আহাদকে কাইড়া নিল? বুকের ধনকে বাঁচাইতে চারটা হাসপাতালে দৌড়াইলাম, তবুও বাঁচাইতে পারলাম না।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রশিদ আহম্মেদ চৌধুরী তোফায়েল জানান, হামে আক্রান্ত আব্দুল আহাদকে সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়। রাতেই তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শুনেছেন মঙ্গলবার রাতেই ঢাকা নেওয়া পথে শিশুটি মারা গেছে।
- বিষয় :
- শিশু
