ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বাজার ঊর্ধ্বমুখী: কষ্টে মানুষ

সংসার নিয়ে টিকে থাকার লড়াই চা দোকানি মুকুলের

সংসার নিয়ে টিকে থাকার লড়াই চা দোকানি মুকুলের
×

মুকুল শেখ

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৯:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর। বেশি সংকটে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। সংসারের খরচ বাড়লেও আয় বাড়েনি। ফলে প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। সাতক্ষীরা শহরের চা দোকানি মুকুল শেখ যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

শহরের ব্যস্ত সড়ক পোস্ট অফিস মোড়ের পাশে মুকুল শেখের চা দোকান। তিনি থাকেন শহরের সুলতানপুরে। এই দোকানের আয়ে চলে তাঁর চার সদস্যের সংসার। একসময় প্রতিদিন যা আয় হতো, তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন চা, চিনি, দুধ, বিস্কুটসহ প্রায় সব কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। ভাড়া বাসায় বসবাস করে টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। 
গতকাল বৃস্পতিবার দুপুরে কথা হয় মুকুল শেখের সঙ্গে। তিনি জানান, অভাব-অনটনের কারণে ঠিকমতো স্কুলের গণ্ডি পেরুতে পারেননি। ২০ বছর ধরে তিনি চা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। দুই ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার। স্ত্রী গৃহিণী, বড় ছেলে সালাউদ্দীন শেখ টাকার অভাবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে এখন দিনমজুরের কাজ করে। ছোট ছেলে আলাউদ্দীন শেখ নবম শ্রেণিতে ওঠার পর এখন তাঁর সঙ্গে দোকানে কাজ করে।

মুকুল বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাঁর দোকান। দিনে ৩০০-৪০০ কাপ চা বিক্রি হয়। পাশাপাশি বিস্কুট, পান ও সিগারেট বিক্রি করেন। আগে ৫০০ টাকায় সংসার চলেছে। এখন হাজার টাকায়ও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগে সিলিন্ডারের গ্যাসের দাম ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ১৮০০-২০০০ টাকা। যে চিনি এক সময় ৭০-৮০ টাকা কেজি ছিল, তা এখন ১০৫ টাকায় কিনতে হয়। চা-পাতার দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ টাকা। নিত্যপণ্যের বাজারে যেন আগুন।

মুকুল শেখ যোগ করেন, চায়ের দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যায়। আবার না বাড়ালে লাভ থাকে না। আগের তুলনায় ব্যবসার খরচ অনেক বেশি হলেও সে অনুপাতে বিক্রি বাড়েনি।
বাজারে আরও কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা বলেন, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার পর বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছে। অনেক পরিবার এখন খরচ কমাতে খাদ্য তালিকা কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

×