কর্তৃপক্ষের কঠোরতায় দৌলতদিয়ার বাসডুবিতে ঘটেনি প্রাণহানি
ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় বাসটি উদ্ধার করা হয়। ছবি: সমকাল
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ১৬:০৩ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ | ১৬:০৪
ঈদুল ফিতরের পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বাস ডুবির ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার ফেরিতে ওঠার আগেই বাসটির সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফলে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস করবী-অক্সফ্যাম ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির র্যাম ভেঙে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই চালক মো. ঝন্টু আলী (৪৮) ও হেলপার মো. সাকিব (২১)কে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করে।
সম্প্রতি দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুনভাবে কঠোরতা আরোপ করেছে প্রশাসন। প্রতিটি বাস ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের সদস্যরা এ কার্যক্রম তদারকি করছেন। মূলত এই সিদ্ধান্তের কারণেই এবার বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, 'যাত্রী নিরাপত্তার জন্য ফেরিতে ওঠার আগে বাস খালি করতে অনেক সময় বেগ পেতে হয়। অনেক যাত্রী নামতে চান না। তাদের বুঝিয়ে নামাতে হয়। আজ যদি বাসটি যাত্রীবোঝাই থাকত, তাহলে কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হতো না।'
বাসের যাত্রী হিরোক আহমেদ জানান, বাসটি সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে এবং সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। আরেক যাত্রী মাইসা রহমান বলেন, 'আমরা ফেরিতে উঠে পড়েছিলাম। বাসটিতে তখন শুধু চালক ও হেলপার ছিলেন। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।'
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় বাসটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল, নৌপুলিশ এবং স্থানীয়রা অংশ নেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন বলেন, 'ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।' জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, 'দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার মাধ্যমে বাসটি নদী থেকে তোলা হয়েছে। যাত্রীদের মালামালও উদ্ধার করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।'
তবে এ ঘটনার পর ৭ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে সাময়িকভাবে যানবাহন পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ একই নৌরুটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেলে নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর ফের বাসডুবির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
- বিষয় :
- দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া
- প্রাণহানি
